পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র খোলা চিঠি। রাজ্যের সাধারণ মানুষের উদ্দেশে লেখা এই চিঠি বর্তমানে ভারতীয় জনতা পার্টির ডোর-টু-ডোর প্রচার কর্মসূচির মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলার অঙ্গীকার
চিঠির শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে সরাসরি সম্বোধন করে রাজ্যকে “উন্নত” ও সমৃদ্ধ বাংলায় পরিণত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে আগামী কয়েক মাসেই বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে এবং সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে জনগণের সচেতন ও বিবেচিত মতামতের উপর নির্ভর করবে।
তিনি লিখেছেন, “সোনার বাংলা”র স্বপ্ন দেখা যুবক, প্রবীণ ও নারীরা আজ নানা সমস্যায় ভুগছেন এবং তাদের এই কষ্ট তাকে ব্যথিত করে। একই সঙ্গে তিনি বাংলার উন্নয়নে নতুন দিশা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেছেন।
কেন্দ্রের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের উল্লেখ
চিঠিতে গত ১১ বছরে কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন যে কৃষক, যুবক, নারী ও সমাজের প্রতিটি শ্রেণির জন্য নেওয়া উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে—

- জনধন যোজনার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৫ কোটি মানুষ ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় এসেছে
- স্বচ্ছ ভারত অভিযানে প্রায় ৮৫ লক্ষ শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে
- ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের প্রায় ২.৮২ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ প্রদান করা হয়েছে
- অটল পেনশন যোজনায় ৫৬ লক্ষের বেশি প্রবীণ নাগরিক উপকৃত হয়েছেন
- উজ্জ্বলা যোজনার মাধ্যমে ১ কোটিরও বেশি পরিবার গ্যাস সংযোগ পেয়েছে
- কৃষক সম্মান নিধির অধীনে ৫২ লক্ষের বেশি কৃষক আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন
রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
চিঠিতে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন যে স্বাধীনতার পর দেশীয় অর্থনীতি ও শিল্পোন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়া এই রাজ্য গত কয়েক দশকে কুশাসন ও তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে কর্মসংস্থানের অভাবে বহু যুবক অন্য রাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন এবং নারীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের বিষয় রয়েছে।
বাড়ি বাড়ি পৌঁছচ্ছে রাজনৈতিক বার্তা
চিঠির শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে “এবার বিজেপি সরকার” গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই খোলা চিঠি শুধুমাত্র একটি বার্তা নয়, বরং ২০২৬ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, গ্রাম থেকে শহর—সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এই চিঠি পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে, ফলে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।











