নন্দীগ্রাম/পশ্চিমবঙ্গ:
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই আবহে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের ২৯১ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে বড় চমক দিয়েছে। সেই তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নামগুলির মধ্যে অন্যতম হল নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী পবিত্র কর।
⚡ নন্দীগ্রামে জমে উঠছে মহারণ
নন্দীগ্রাম বরাবরই রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র। এবারও এই আসনে লড়াই অত্যন্ত হাইভোল্টেজ হতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তৃণমূল কংগ্রেস এখানে পবিত্র করকে প্রার্থী করে একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
👩💼 মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় সিদ্ধান্ত
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার নন্দীগ্রাম থেকে নির্বাচন না লড়ে ভবানীপুর থেকে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তের পরই নন্দীগ্রামের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে পবিত্র করের হাতে।
🔁 ‘ঘরে ফেরা’য় বদলাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ
পবিত্র কর সম্প্রতি ভারতীয় জনতা পার্টি ছেড়ে আবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। ২০২১ সালে তিনি সুবেন্দু অধিকারী-র পথ অনুসরণ করে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে ভোটের ঠিক আগে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি “নন্দীগ্রামের ছেলে” হিসেবে পরিচিত, যা তাঁর জনপ্রিয়তার বড় প্রমাণ।
🧩 রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পারিবারিক প্রভাব
পবিত্র কর দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি পূর্বে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কাজ করেছেন এবং ২০১৮ সালে দুটি গ্রামের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর পরিবারও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়। তাঁর স্ত্রী বিজেপির টিকিটে নির্বাচন লড়ে ২০২৩ সালে জয়লাভ করেছেন, যা প্রমাণ করে এলাকায় তাঁদের শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে।
🏁 সামনে কড়া লড়াইয়ের সম্ভাবনা
রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, বিজেপি আবারও নন্দীগ্রাম থেকে সুবেন্দু অধিকারী-কে প্রার্থী করতে পারে। যদি তা হয়, তাহলে এই আসনে লড়াই হবে অত্যন্ত তীব্র ও রোমাঞ্চকর।
পবিত্র করকে একজন মাটির মানুষ হিসেবে দেখা হয়, যিনি প্রচারের চেয়ে সংগঠনের কাজে বেশি গুরুত্ব দেন। ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য তিনি একটি শক্তিশালী মুখ হয়ে উঠতে পারেন।
🔍 রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
নন্দীগ্রাম শুধু একটি বিধানসভা কেন্দ্র নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মর্যাদার প্রতীক। এখানে প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং প্রতিটি প্রার্থী নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তৃণমূল কংগ্রেসের এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে দলটি এই আসন পুনরুদ্ধারে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। এখন দেখার বিষয়, নন্দীগ্রামের মানুষ কাকে বেছে নেন—পুরনো সম্পর্ক নাকি নতুন কৌশল।














