কটক: ওড়িশার কটক শহরের এসসিবি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে সোমবার ভোররাতে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার আইসিইউতে হঠাৎ ভয়াবহ আগুন লেগে ১০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে রোগীদের বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ১১ জন হাসপাতাল কর্মী গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ঘটনায় গোটা হাসপাতাল এবং আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গভীর রাতে আইসিইউতে আগুন
সূত্রের খবর, রাত প্রায় ২টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টার মধ্যে ট্রমা কেয়ার বিভাগের আইসিইউতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেই সময় সেখানে বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ রোগীর চিকিৎসা চলছিল।
হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগে শর্ট সার্কিট হওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো আইসিইউ ঘন ধোঁয়া ও আগুনে ঢেকে যায়।
২৩ রোগীকে অন্য ওয়ার্ডে সরানো হয়
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
এই সময় আইসিইউতে ভর্তি ২৩ জন রোগীকে দ্রুত হাসপাতালের অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। তবে তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই অত্যন্ত সংকটজনক ছিল।
স্থানান্তরের সময়ই মৃত্যু
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ৭ জন রোগীর মৃত্যু হয় অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তরের সময়, আর ৩ জন পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ফলে এই দুর্ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ জনে।
রোগী বাঁচাতে গিয়ে আহত স্বাস্থ্যকর্মীরা
আগুন লাগার পর রোগীদের উদ্ধার করতে গিয়ে ১১ জন হাসপাতাল কর্মী আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে আটকে পড়ে গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। তাঁদের বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রীর পরিদর্শন
ঘটনার খবর পাওয়ার পরই ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী মুকেশ মহালিং হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিটকেই আগুন লাগার প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে, তবে পুরো ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও হাসপাতালগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা পরিকাঠামো নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে হাসপাতালগুলিতে নিয়মিত ফায়ার সেফটি অডিট এবং জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ অত্যন্ত জরুরি।














