আসানসোলের কুলটি থানার অন্তর্গত নিয়ামতপুর এলাকায় একের পর এক দু’টি দোকানে ভয়াবহ চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক—এই পরিস্থিতিতেই আজ তদন্তে নামে আসানসোল ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট (DD)। ঘটনার পর গোটা নিয়ামতপুর এখন চুরি–তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু।
🔴 এক রাতেই দুই দোকানে ধারাবাহিক চুরি—৮০ লক্ষ টাকার মোবাইল উধাও
গত রবিবার গভীর রাতে নিয়ামতপুর GT রোডের দুর্গাপুর–আসানসোল সংযোগস্থলের কাছে ‘ওম রেডিমেড গার্মেন্টস’ থেকে প্রায় ৫০,০০০ টাকা নগদ চুরি হয়।
এর কিছুক্ষণ পরেই একই কায়দায় চোরেরা হাত মারে এলাকার অন্যতম জনপ্রিয় দোকান ‘জয় বলাজি মোবাইল’-এ। সেখান থেকে ৩০–৩৫টি দামি স্মার্টফোন উধাও হয়ে যায়। বাজারমূল্য মিলিয়ে চুরি যাওয়া মোবাইলগুলোর দাম প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা।
চুরি অত্যন্ত প্রফেশনাল পদ্ধতিতে হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। দোকানের শাটার কাটা, CCTV ব্লাইন্ড স্পট ব্যবহার—সব মিলিয়ে একটি সুসংগঠিত চক্রের হাত থাকার সন্দেহ জোরালো।
🔴 ভাইরাল CCTV ফুটেজে তোলপাড়! মুখোশধারী চোরদের গতিবিধি স্পষ্ট
চুরির রাতের CCTV ফুটেজ ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, চোরেরা কয়েক মিনিটের মধ্যেই দোকানের ভেতরে ঢুকে দামী মোবাইলগুলি সাবলীলভাবে লুট করে নিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই চক্র অনেকদিন ধরেই এলাকায় সক্রিয়।
🔴 রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ—ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ বিস্ফোরিত
ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় নিয়ামতপুর চেম্বার অফ কমার্স এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আজ নিয়ামতপুর মোড় GT রোড অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ দেখান।
তাদের অভিযোগ—এলাকায় রাতের পুলিশি টহল অত্যন্ত দুর্বল, যার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা বারবার হামলা চালাচ্ছে।
🔴 তদন্তে মাঠে নামল আসানসোল DD — দোকান পরিদর্শনে হাই-লেভেল টিম
আজ দুপুর ২টো নাগাদ চুরির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে আসানসোল DD-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উপস্থিত ছিলেন—
- ADC (DD) মীর সাইদুল আলি
- DD ইনস্পেক্টর প্রসঞ্জন দাস
- ৩ জন সাব–ইনস্পেক্টর
- ২ জন কনস্টেবল
এ ছাড়াও নিয়ামতপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ অখিল মুখার্জি, সাব–ইনস্পেক্টর বিনয় দাস, মিলন ভূঁই, এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
টিম দুটি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ, লকিং সিস্টেম, প্রবেশদ্বার, শাটার ক্ষতিগ্রস্ত অংশসহ বিভিন্ন দিক গভীরভাবে পরীক্ষা করেন।
🔴 ইন্টার-স্টেট গ্যাংয়ের যোগ? তদন্তে নতুন দিশা খুঁজছে পুলিশ
চুরির ধরন দেখে পুলিশের সন্দেহ—এটি কোনো ইন্টার-স্টেট মোবাইল লুট চক্রের কাজ হতে পারে।
চুরি যাওয়া মোবাইলগুলির IMEI ট্র্যাকিং, এলাকার মোবাইল রিপেয়ার দোকানগুলিতে নজরদারি এবং পুরোনো অপরাধীদের কার্যকলাপ—সব কিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
🔴 স্থানীয়দের দাবি—টহল বাড়ান, নয়তো চোরেরা আরও বেপরোয়া হবে
নিয়ামতপুরে দিন দিন বাড়তে থাকা অপরাধে সাধারণ মানুষের ভয় বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, রাতের বেলা উন্নত টহল ব্যবস্থা থাকলে এমন ঘটনা রোধ করা যেত।
🟡 সর্বোপরি…
এক রাতেই দুই দোকানে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় নিয়ামতপুরের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে। তদন্ত শুরু হয়েছে, এখন দেখার—DD কত দ্রুত এই রহস্যের জট খুলতে পারে।











