নয়াদিল্লি:
ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পেল নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি। নীতিন নবীনকে সর্বসম্মতভাবে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন। নীতিন নবীন বিজেপির ১২তম জাতীয় সভাপতি এবং একইসঙ্গে তিনি দলের সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি হিসেবে ইতিহাস গড়লেন। তাঁর কার্যকাল হবে তিন বছর।
নির্বিরোধ নির্বাচন, উপস্থিত শীর্ষ নেতৃত্ব
জাতীয় সভাপতি পদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নীতিন নবীন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।
নির্বাচন আধিকারিক লক্ষ্মণের মতে, নীতিন নবীনের সমর্থনে মোট ৩৭টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে, যার ফলে তাঁর নির্বিরোধ নির্বাচন নিশ্চিত হয়।
সংগঠন ও রাজনীতি—দুই ক্ষেত্রেই বড় দায়িত্ব
জাতীয় সভাপতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নীতিন নবীনের সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়িয়েছে। আসন্ন পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে দলের কৌশলকে শক্তিশালী করার দায়িত্ব তাঁর উপর দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির পূর্ণ দায়িত্ব এখন তাঁর হাতেই। মহিলা সংরক্ষণ, প্রস্তাবিত জাতিগত জনগণনা, এবং বিরোধী জোটের মোকাবিলা—এই সব বিষয় তাঁর কার্যকালে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে।
কার্যকরী সভাপতি থেকে জাতীয় সভাপতির যাত্রাপথ
গত ডিসেম্বর মাসে বিজেপি নীতিন নবীনকে দলের কার্যকরী সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করেছিল, যা তখন রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় সৃষ্টি করেছিল। নীতিন নবীন পাঁচবারের বিধায়ক। এর আগে তিনি ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ছত্তিশগড় বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে সহ-প্রভারি করা হয়েছিল, যেখানে নির্বাচনী প্রচার ও ব্যবস্থাপনায় তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। এই সাংগঠনিক দক্ষতার কারণেই দলীয় নেতৃত্ব প্রথমে তাঁকে কার্যকরী সভাপতি এবং পরে জাতীয় সভাপতির দায়িত্ব দেয়।
নীতিন নবীন বিজেপির প্রথম কায়স্থ জাতীয় সভাপতি হিসেবেও পরিচিত হলেন।
ভোটের রাজ্যগুলিতে বিশেষ নজর
নীতিন নবীন এমন সময়ে জাতীয় সভাপতির দায়িত্ব নিলেন, যখন পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরি এবং অসমে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন।
পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু ও কেরল—এই রাজ্যগুলিতে বিজেপি এখনও ক্ষমতায় আসতে পারেনি। অন্যদিকে অসমে তৃতীয়বার সরকার গঠন এবং পুদুচেরিতে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরা দলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
এই সমস্ত রাজ্যে সংগঠন মজবুত করা এবং নির্বাচনী কৌশল আরও ধারালো করা নীতিন নবীনের অগ্রাধিকার তালিকায় শীর্ষে থাকবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।











