জামুড়িয়া থানার অন্তর্গত নিঙ্ঘা এলাকায় জাতীয় সড়ক এনএইচ-১৯–এ দীর্ঘদিনের জলজট সমস্যার সমাধানে সোমবার পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ ফিল্ড ভেরিফিকেশন করা হয়। বর্ষা হোক বা খনি এলাকার অতিরিক্ত জল, সড়কে নিয়মিত জল জমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ, যানবাহন চালক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছিল। সেই প্রেক্ষিতেই প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই যৌথ পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ইসিএল, এনএইচএআই, এএমসি, পুলিশ প্রশাসন এবং এক ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা এলাকায় জল প্রবাহ, জমে থাকা পানির উৎস, সড়কের উচ্চতা ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার অবস্থা খতিয়ে দেখেন।
📑 প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে তৈরি হবে বিস্তারিত পরিকল্পনা
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এএমসি-র জল সরবরাহ বিভাগের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অচিন্ত্য বরুই ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেবেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে ইসিএল-এর অতিরিক্ত জল শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার বা অন্য প্রয়োজনীয় কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রযুক্তিগত রিপোর্ট প্রস্তুত করা হবে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, খনি এলাকা থেকে নির্গত অতিরিক্ত জলকে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারলে ভবিষ্যতে জলজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
🛣️ জলজট দূর হলেই রাস্তা মেরামত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়বে এনএইচএআই
অধিকারিকরা জানিয়েছেন, জলজট সমস্যার সমাধান হওয়ার পর এনএইচএআই-এর তরফে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার দ্রুত মেরামত করা হবে। পাশাপাশি পৃষ্ঠস্থ জল নিষ্কাশনের জন্য একটি উন্নত ড্রেনেজ সিস্টেম তৈরি করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে ভারী বৃষ্টি বা অতিরিক্ত জল প্রবাহের সময় সড়কে আর জল না জমে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জল জমে থাকার কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই এই যৌথ উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বস্তির আশা তৈরি হয়েছে।
👨💼 ফিল্ড ভেরিফিকেশনে উপস্থিত আধিকারিকরা
- ধীরজ ঠাকুর, এরিয়া ইঞ্জিনিয়ার, ইসিএল
- টি. কে. নাগ, এরিয়া সার্ভে অফিসার, ইসিএল
- নীরজ আগ্রহরী, ম্যানেজার টেকনিক্যাল, এনএইচএআই
- সুদর্শন দাস, আর.ই., এনএইচএআই
- কৌশিক সেনগুপ্ত, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল), এএমসি
- অচিন্ত্য বরুই, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার (জল সরবরাহ), এএমসি
- রানা আম্বিকা দত্ত, টি.আই., এডিপিসি
- অনুপ কুমার হাঁটি, ওসি, জামুড়িয়া টিজি
🏗️ সমন্বিত উদ্যোগে স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরের সমন্বয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খনি এলাকা, শিল্প জল নিষ্কাশন এবং সড়ক অবকাঠামোর সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এনএইচ-১৯–এর এই দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার অবসান ঘটতে পারে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও অনেক বেশি স্বাভাবিক ও নিরাপদ হয়ে উঠবে।











