আসানসোলের সেই কালীমন্দিরে মা থাকেন শিকলে বাঁধা, এক বছর পর খোলা হয় বন্ধন!

single balaji

সঞ্জীব যাদব, আসানসোল:
পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের কুলটি বিধানসভা এলাকার লচীপুরমে অবস্থিত ব্রহ্মচর্যস্থান কালীমন্দির এক অনন্য ঐতিহ্য ও রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু। এই মন্দিরে তিন-মাথাওয়ালা মা কালির মূর্তি এক বছর ধরে শৃঙ্খলে বাঁধা অবস্থায় থাকে, আর দুর্গাপুজোর বিজয়াদশমীর দিন সেই শিকল খোলা হয়।

এই বিরল প্রথার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু বছরের লোককথা ও অলৌকিক বিশ্বাস। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই মন্দির একসময় এক প্রাচীন দেবী ‘দিয়াশী মা’-র পূজাস্থান ছিল।

দিয়াশী মা থেকে শুরু, কালিমূর্তির রহস্যময় আগমন

কথিত আছে, এক সময় যখন দেবী দিয়াশীর মৃত্যু হয়, তাঁর শেষকৃত্যের সময় যখন তাঁকে মন্দির থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন মা কালিও মন্দির ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে গ্রামের তান্ত্রিকেরা বিশেষ মন্ত্র-তন্ত্রের মাধ্যমে মা কালিকে পুনরায় মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু তখন থেকে দেবীকে লোহার শিকলে বেঁধে রাখা হয়, যেন তিনি আর মন্দির ছেড়ে না যান।

শিকলবন্দি দেবীর পূজা ও অলৌকিক বিশ্বাস

আজও এই মন্দিরে মা দিয়াশী ও মা কালির যুগল পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ তান্ত্রিক মন্ত্রে রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি ও অশুভ শক্তি দূরীকরণ করা হয় বলে বিশ্বাস।
প্রতিবছর কালীপুজোর অমাবস্যার রাতে মা কালিকে বিশেষ আচারানুষ্ঠানের মাধ্যমে স্থাপন করা হয়, এবং এক বছর পরে দুর্গাপুজোর দশমীর দিনে দেবীকে শোভাযাত্রায় মন্দির থেকে বাইরে আনা হয়।

স্থানীয়দের মতে, এই দিনটি শুভ ও শক্তির প্রতীক

স্থানীয় এক পুরোহিত বলেন —

“মা-কে শিকলে বাঁধা মানে তাঁকে বন্দি করা নয়, বরং তাঁর অগাধ শক্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। বিজয়াদশমীর দিন শিকল খোলার সঙ্গে সঙ্গেই আশেপাশের পরিবেশে এক অলৌকিক শক্তির অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে।”

রহস্যে ঘেরা ঐতিহ্য, ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে

প্রতি বছর এই দিনটিতে হাজার হাজার ভক্ত লচীপুরমে ভিড় জমান, কেউ মা কালির দর্শন করতে, কেউ নিজের অসুস্থতা ও দুঃখ থেকে মুক্তি কামনায়।
মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বছরের বিজয়াদশমীতে বিশেষ পূজা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে, যেখানে কুলটি ও আসানসোলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ আসবেন।

ghanty

Leave a comment