কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী মুকুল রায় সোমবার ভোররাতে প্রয়াত হয়েছেন। ৭১ বছর বয়সি এই বর্ষীয়ান নেতা কলকাতার সল্টলেকের অ্যাপোলো হাসপাতাল কলকাতা-এ রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণের খবরে রাজনৈতিক মহলসহ বিভিন্ন স্তরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, তাঁর পুত্র শুভ্রাংশু রায় জানান যে, গভীর রাতে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং প্রায় ৬০০ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরিবারের মতে, তাঁর মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি, যা রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত—দুই ক্ষেত্রেই গভীর শূন্যতা তৈরি করল।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে ছিলেন
১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মুকুল রায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক বিস্তারে তাঁর কৌশলগত অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুব কংগ্রেস থেকে দিল্লির রাজনীতিতে দৃঢ় অবস্থান
রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয় যুব কংগ্রেসের মাধ্যমে। পরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হন এবং ২০০৬ সালে রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভায় দলের নেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
ইউপিএ-২ সরকারের সময় তিনি প্রথমে জাহাজ মন্ত্রকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে ২০১২ সালে রেল মন্ত্রকের দায়িত্ব গ্রহণ করে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের প্রভাব আরও সুদৃঢ় করেন।
বিজেপিতে যোগ দিয়ে বদলে দেন রাজনৈতিক সমীকরণ
নভেম্বর ২০১৭ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টি-তে যোগ দেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনে। পরবর্তীতে তিনি রাজ্যে বিজেপির অন্যতম প্রধান কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন।
এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান
মুকুল রায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। সংগঠন গঠন, কৌশল নির্ধারণ এবং রাজ্যের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব বিস্তারে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তাঁর প্রয়াণে রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কর্মী এবং সাধারণ মানুষ শোকপ্রকাশ করেছেন এবং তাঁর অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।











