আসানসোল, পশ্চিমবঙ্গ: এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী মলয় ঘটক অভিযোগ করেছেন যে এসআইআর প্রক্রিয়ার নাম করে রাজ্যে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই পরিকল্পনা শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, বরং আসানসোলেও বিশেষভাবে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষদের লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে।
আসানসোলে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই গুরুতর অভিযোগ তোলেন মন্ত্রী মলয় ঘটক। তিনি বলেন, কেন্দ্র সরকার এসআইআর প্রক্রিয়ার আড়ালে পশ্চিমবঙ্গে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে নিশানা করার অভিযোগ
মন্ত্রী মলয় ঘটক দাবি করেন, আসানসোলসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত কৌশল, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের নির্বাচনে কিছু নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যদি বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তাহলে নির্বাচনের সমীকরণ বদলে যেতে পারে এবং এর রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে।
কেন্দ্র সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন
মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, কেন্দ্র সরকারের লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানো এবং ক্ষমতা দখল করা। তাঁর অভিযোগ, সেই লক্ষ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম মুছে ফেলার ঘটনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যের ডাক
বৈঠকে উপস্থিত খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের উদ্দেশে মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, যদি এ ধরনের ঘটনা সামনে আসে, তাহলে কাউকে নীরব থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, ভোটাধিকার গণতন্ত্রের অন্যতম শক্তি, তাই এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে একজোট হয়ে প্রতিবাদ জানানো প্রয়োজন।
তিনি আরও আহ্বান জানান, এই বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনও মানুষ তার মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা ও এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে। এই ইস্যু আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।














