কোচবিহার/কলকাতা: আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলার রাজনীতিতে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তরবঙ্গ থেকেই তাঁর নির্বাচনী প্রচারের সূচনা করতে চলেছেন। বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চল থেকেই ‘চেঞ্জ’-এর বার্তা ছড়াতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
রবিবার দুপুর প্রায় ২টা নাগাদ ভারতীয় বায়ুসেনার হেলিকপ্টার কোচবিহার বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সেখান থেকে সড়কপথে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছাবেন কোচবিহারের ঐতিহাসিক রসমেলা ময়দানে, যেখানে অনুষ্ঠিত হবে তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত ‘বিজয় সংকল্প সভা’।
🎯 উত্তরবঙ্গ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তরবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহারের ৯টির মধ্যে ৭টি আসন দখল করে বিজেপি তাদের শক্তি প্রমাণ করেছিল। যদিও ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার আসনে পরাজয় দলকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর এই সভা শুধুমাত্র একটি জনসভা নয়, বরং উত্তরবঙ্গে হারানো জমি পুনরুদ্ধারের বড় কৌশল।
⚔️ রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন টানাপোড়েন
স্বাধীনতার পর টানা ৬ বার এই আসনে জয় পেয়েছিল কংগ্রেস। এরপর ১৯৭৭ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ফরওয়ার্ড ব্লকের দখলে ছিল কোচবিহার। ২০১৯ সালে বিজেপি প্রথমবার জয় পায়, যখন তৃণমূল ছেড়ে আসা নিশীথ প্রামাণিক সাংসদ হন এবং পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও হন।
তবে ২০২৪ সালে তৃণমূলের জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া-র কাছে তাঁর পরাজয় রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেয়।
🗣️ বিজেপির বার্তা—‘ভয় নয়, ভরসা’
রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য বলেন,
👉 “ভয় নয়, ভরসা চাই। ভিক্ষা নয়, কর্মসংস্থান চাই। প্রতিভার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা নয়—আমরা পশ্চিমবঙ্গকে বৃদ্ধাশ্রম হতে দেব না।”
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন এবং ‘সুজলম সুফলম’ বাংলার পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরবেন।
📞 ডিজিটাল সংযোগেও জোর
সভা শেষের পর ৬ এপ্রিল সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী সারা বাংলার বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে ব্রিজ কলের মাধ্যমে সরাসরি কথা বলবেন। এতে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা স্পষ্ট।
🔥 রসমেলা ময়দানের গুরুত্ব কী?
কোচবিহারের রসমেলা ময়দান বিজেপির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মঞ্চ। ২০২১ বিধানসভা ও ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও এখানেই সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তাই আবারও এই মাঠ বেছে নেওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
📊 ১৩টি আসনে নজর বিজেপির
এই সভার মাধ্যমে কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার মোট ১৩টি বিধানসভা আসনকে টার্গেট করা হয়েছে। এর মধ্যে কোচবিহারের ৮টি এবং আলিপুরদুয়ারের ৫টি আসন রয়েছে (মেখলিগঞ্জ বাদে)।
জেলা বিজেপি সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন,
👉 “কোচবিহার থেকেই বাংলার নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। এখান থেকেই তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ডাক উঠবে। এই সভায় তিন লক্ষের বেশি মানুষের সমাগম হবে।”
🚨 রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট
মোদীর এই সভা নিছক একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং ২০২৬ সালের নির্বাচনের ‘সেমিফাইনাল’ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু হওয়া এই প্রচার গোটা বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
এখন দেখার, রসমেলা ময়দান থেকে ওঠা এই রাজনৈতিক ঢেউ আদৌ কি পরিবর্তনের স্রোত বইয়ে দিতে পারে, নাকি তা শুধুই নির্বাচনী কৌশল হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে।















