রাষ্ট্রপতির সম্মান নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত, মুখোমুখি নরেন্দ্র মোদী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

single balaji

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে বড় রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এবার বিষয়টি ঘিরে রয়েছে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মান এবং তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য। উত্তরবঙ্গ সফরের সময় রাষ্ট্রপতির কিছু বক্তব্যের পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা এখন রাজ্যের রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে এবং বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

উত্তরবঙ্গ সফরেই শুরু বিতর্ক

শনিবার আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে উত্তরবঙ্গে পৌঁছেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সেখানে নিজের বক্তব্যে তিনি অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে কিছু প্রশ্ন তোলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁকে জানানো হয়েছিল যে অনুষ্ঠানের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই, অথচ সেখানে অনেক মানুষের উপস্থিতির সম্ভাবনা ছিল। তিনি আরও বলেন, তিনি নিজেও বাংলার মেয়ে, কিন্তু তাঁকে প্রায়ই রাজ্যে আসার সুযোগ দেওয়া হয় না।

নিজের বক্তব্যে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের ছোট বোন বলে উল্লেখ করে বলেন, কেন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ওপর রাগ করেছেন তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

আদিবাসী ও সাঁওতাল সমাজ নিয়ে প্রশ্ন

রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের আদিবাসী ও সাঁওতাল সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও সরকারি সুবিধা পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, রাজ্যের সব আদিবাসী মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পুরোপুরি পাচ্ছেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্যের পরই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

ধর্মতলায় মঞ্চ থেকে মমতার জবাব

রাষ্ট্রপতির মন্তব্যের জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার ধর্মতলায় চলতে থাকা প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে, কিন্তু তাঁর মতে রাষ্ট্রপতি বিজেপির নীতির জালে জড়িয়ে পড়েছেন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে রাষ্ট্রপতির পদকে ব্যবহার করছে।

তিনি মণিপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এবং প্রশ্ন করেন, সেই সময় কেন রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য শোনা যায়নি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন যে রাজ্য সরকার আদিবাসী উন্নয়নের জন্য একাধিক প্রকল্প চালু করেছে।

নরেন্দ্র মোদীর কড়া প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে তা লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন

তিনি অভিযোগ করেন যে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সব সীমা অতিক্রম করেছে এবং রাষ্ট্রপতির প্রতি এই কথিত অসম্মানের জন্য রাজ্য প্রশাসন দায়ী।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং সেই পদমর্যাদার মর্যাদা রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব।

বিতর্কে যোগ দিলেন অমিত শাহ ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

এই বিতর্কে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, রাজ্য সরকার রাষ্ট্রপতির প্রতি অসম্মানের উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে কড়া ভাষায় পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, যখন বিজেপি, নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সংস্থা, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপাল—সব প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে বাংলার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তখন বাংলা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে

রাজনীতিতে নতুন বড় ইস্যু

রাষ্ট্রপতির বক্তব্য ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র–রাজ্য সম্পর্ক এবং রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক মর্যাদা নিয়ে জাতীয় স্তরেও নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হতে পারে

ghanty

Leave a comment