ওয়াক্ফ আইনে মমতার না মানা ঘোষণা কি সাংবিধানিক সঙ্কট ডেকে আনবে?”

single balaji

নয়া দিল্লি/কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে তিনি ওয়াক্ফ সংশোধনী আইন রাজ্যে কার্যকর হতে দেবেন না। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশে নতুন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে — একটি রাজ্য সরকার কি সংসদে পাশ হওয়া আইন রুখে দিতে পারে?

🧾 ওয়াক্ফ আইন কী এবং এর বিতর্ক কেন?

ওয়াক্ফ হল একটি ধর্মীয় চ্যারিটেবল ট্রাস্ট যেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা সামাজিক ও ধর্মীয় কাজে সম্পত্তি দান করেন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার ওয়াক্ফ সংশোধনী আইন এনেছে, যার বিরুদ্ধে কিছু মুসলিম সংগঠন প্রতিবাদে নেমেছে। এই পরিস্থিতিতে মমতা ব্যানার্জি বলেন, “এই আইন বাংলায় চালু হতে দেব না।”

⚖️ ভারতে আইন তৈরির তিনটি তালিকা এবং ওয়াক্ফের অবস্থান:

  1. কেন্দ্রীয় তালিকা — শুধুমাত্র সংসদ আইন করতে পারে
  2. রাজ্য তালিকা — শুধুমাত্র রাজ্য বিধানসভা আইন করতে পারে
  3. সমলম্বী তালিকা (Concurrent List) — উভয়েই আইন করতে পারে, কিন্তু সংসদের আইন সর্বোচ্চ

ধর্মীয় ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট সংক্রান্ত বিষয়গুলি সমলম্বী তালিকার ২৮ নম্বরে রয়েছে। অর্থাৎ রাজ্য সরকার আইন করতেই পারে, কিন্তু সংসদে পাশ হওয়া আইন প্রাধান্য পাবে এবং বাধ্যতামূলক হবে।

📜 ভারতের সংবিধান কী বলছে?

🔹 অনুচ্ছেদ ২৫৬:

রাজ্য সরকার সংসদে পাশ হওয়া আইন কার্যকর করতে অস্বীকার করতে পারে না। এমন করলে কেন্দ্র সরকার নির্দেশ জারি করতে পারে।

🔹 অনুচ্ছেদ ৩৬৫:

কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করলে সেটি সাংবিধানিক সঙ্কট বলে বিবেচিত হবে। এতে রাষ্ট্রপতি শাসন (অনুচ্ছেদ ৩৫৬) আরোপের সুযোগ তৈরি হয়।

🔹 অনুচ্ছেদ ২৫৪:

যদি রাজ্য সরকার ভিন্ন আইন করতে চায়, তবে রাষ্ট্রপতির অনুমতি বাধ্যতামূলক। না হলে সেই আইন অবৈধ বলে বিবেচিত হবে।

তাহলে মমতা ব্যানার্জির দাবির সাংবিধানিক ভিত্তি কতটা শক্ত?

সংবিধানের দৃষ্টিতে মমতা ব্যানার্জির দাবি দুর্বল। সংসদে পাশ হওয়া আইন রাজ্যে চালু না করতে পারার কোনও সংবিধানিক সুযোগ নেই তার। এটি একটি রাজনৈতিক ঘোষণার বেশি কিছু নয়।

📢 কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা আছে কি?

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই আইন কার্যকর না করে, তবে কেন্দ্র সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে। বিষয়টি দীর্ঘায়িত হলে তা সংবিধানিক সঙ্কটে পরিণত হতে পারে।

ghanty

Leave a comment