মমতা আইনের ঊর্ধ্বে নন! নির্বাচন কমিশনে ভিডিও জমা দিয়ে বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর

single balaji

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ। এই আবহেই বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন।

সোমবার তাঁরা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দাবি করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। শুধু অভিযোগই নয়, শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচন কমিশনের কাছে দুটি ভিডিও ক্লিপ জমা দিয়েছেন, যেগুলিকে তিনি “উস্কানিমূলক” বলে দাবি করেছেন।

🎥 ভিডিও ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

শুভেন্দুর দাবি, ওই ভিডিওগুলিতে মুখ্যমন্ত্রীকে মহিলাদের কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে উস্কানি দিতে দেখা যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “একজন সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি যদি রক্ষকের বদলে আক্রমণকারীর ভাষায় কথা বলেন, তাহলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে সম্ভব?”

এই অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। বিরোধী দলগুলি এটিকে গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক বললেও, শাসক শিবির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

⚖️ “মমতা আইনের ঊর্ধ্বে নন” — শুভেন্দুর কড়া বার্তা

শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যখন অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম কেন? তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিরাপত্তা আধিকারিক মনোজ বর্মার নির্দেশে সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং মুখ্যমন্ত্রীর সুবিধার জন্য রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

🏛️ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

বিজেপি নেতৃত্ব প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। শুভেন্দুর দাবি, বদলি হওয়ার পরেও জঙ্গিপুরের এসপি মেহেদি হাসান এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের এসপি পলাশ ঢালি প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ করছেন, যা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করছে।

📞 ফোন ট্যাপিং ও সিআইডি-র ‘হয়রানি’ অভিযোগ

বিজেপির অভিযোগ, ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (আইবি)-এর মাধ্যমে দলীয় কর্মীদের ফোন ও অবস্থান নজরদারি করা হচ্ছে। পাশাপাশি, নির্বাচনের মাঝেই সিআইডি বারবার বিজেপি প্রার্থীদের তলব করে মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

🗳️ ভোটার তালিকায় ‘ভূতুড়ে নাম’!

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ভোটার তালিকা নিয়ে। শুভেন্দুর দাবি, বহু এমন ব্যক্তির নাম এখনও তালিকায় রয়েছে, যাদের কোনও অস্তিত্বই নেই। ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার পরেও সংশোধন না হওয়ায় বিজেপি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং একটি বিস্তারিত তালিকা নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছে।

🔍 রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনকে ঘিরে এই ধরনের অভিযোগ-প্রতিআভিযোগ আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই রাজ্যের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত ও নাটকীয় হয়ে উঠবে—এটাই এখন স্পষ্ট।

👉 এই ইস্যু ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে যে ঝড় উঠেছে, তা আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেবে, এখন সেদিকেই নজর সবার।

ghanty

Leave a comment