কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণা আসার ঠিক আগে একের পর এক বড় ঘোষণা করে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নবান্নে অনুষ্ঠিত ‘সম্মান সম্মেলন’-এ তিনি যে সব ঘোষণা করেছেন, তাতে স্পষ্ট—এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস আরও জোরালোভাবে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিকে সামনে রেখে লড়াইয়ে নামতে চলেছে। বিশেষ করে যুব সমাজ, মহিলা ও গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষকে কেন্দ্র করেই কৌশল সাজানো হয়েছে।
🎯 ১ এপ্রিল থেকেই চালু ‘যুব সাথী’ ভাতা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ‘যুব সাথী’ বেকার ভাতা নিয়ে। আগে এই প্রকল্প ১৫ আগস্ট থেকে চালু হওয়ার কথা থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তা কার্যকর হবে আগামী ১ এপ্রিল থেকে। অর্থবর্ষের শুরু থেকেই এই ভাতা চালু করার সিদ্ধান্তকে কেবল প্রশাসনিক নয়, বরং স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বেকারত্বের ইস্যুতে বিরোধীদের লাগাতার আক্রমণের মুখে পড়া রাজ্য সরকার সরাসরি আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষিত বেকার যুবকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিতে চায় বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
💰 কারা পাবেন এই সুবিধা?
এই প্রকল্পের আওতায় ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক উত্তীর্ণ বেকার যুবক-যুবতীরা মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। সর্বোচ্চ পাঁচ বছর অথবা চাকরি পাওয়া পর্যন্ত এই আর্থিক সহায়তা মিলবে।
কন্যাশ্রী ও শিক্ষাশ্রী প্রকল্পের উপভোক্তারাও এই সুবিধা নিতে পারবেন। তবে রাজ্যের অন্যান্য কিছু জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।
🏕️ ১৫–২৬ ফেব্রুয়ারি দুয়ারে শিবির
আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে ১৫ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিশেষ শিবিরের মাধ্যমে। অনলাইন প্রক্রিয়ার বদলে ‘দুয়ারে সরকার’ মডেলের আদলে এই শিবিরগুলির আয়োজন করা হচ্ছে। রাজ্যের সমস্ত ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে এই সময়ের মধ্যে ক্যাম্প বসবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
🗳️ নির্বাচনের আগে বড় বার্তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ শহর ও শহরতলির যুব সমাজের পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবারের উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে। সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, এই ঘোষণার প্রভাব কতটা পড়ে ভোটের ময়দানে এবং বিরোধীরা এর পাল্টা কৌশল কী নেয়। তবে আপাতত রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে ‘যুব সাথী’ প্রকল্পই।











