নয়াদিল্লি:
পশ্চিমবঙ্গের SIR (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) সংক্রান্ত মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগতভাবে সুপ্রিম কোর্টে হাজিরা দেওয়াকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একটি আবেদন শুনতেই অস্বীকার করল সর্বোচ্চ আদালত। ভারতের প্রধান বিচারপতি সিজেআই সূর্য কান্ত আবেদনকারীকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেন, এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দেওয়া ঠিক নয়।
কেন শুনানি নিল না সুপ্রিম কোর্ট
আবেদনটি খতিয়ে দেখে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, এই মামলায় এমন কোনও অস্বাভাবিক বা নজিরবিহীন বিষয় নেই, যার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি স্পষ্ট জানান, মুখ্যমন্ত্রীর আদালতে উপস্থিতিকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি করা সংবিধানের উপর অবিশ্বাস প্রকাশের শামিল।
পুরো ঘটনার পটভূমি
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয়ে SIR প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলায় সওয়াল করেছিলেন। এই পদক্ষেপকে “সংবিধানবিরোধী” বলে দাবি করে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার সহ-সভাপতি সতীশ কুমার আগরওয়াল একটি হস্তক্ষেপমূলক আবেদন দাখিল করেন।
আবেদনে কী যুক্তি দেওয়া হয়েছিল
আবেদনকারীর দাবি ছিল, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২ অনুযায়ী দায়ের হওয়া মামলায় কোনও পদাসীন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা দেওয়া সংবিধানগতভাবে অনুচিত, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত এবং আইনগতভাবে দুর্বল।
আবেদনে আরও বলা হয়, SIR সংক্রান্ত বিষয়টি ব্যক্তিগত নয়, বরং রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পরিবর্তে অভিজ্ঞ আইনজীবীদের মাধ্যমেই রাজ্যের বক্তব্য পেশ করা উচিত ছিল।
প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা
আবেদনকারীর আরও অভিযোগ ছিল, কোনও পদাসীন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত হাজিরা আদালতের উপর প্রতীকী চাপ তৈরি করতে পারে এবং ক্ষমতার বিভাজন নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি আবেদনটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
আদালতের স্পষ্ট অবস্থান
এই সমস্ত যুক্তি খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, সংবিধানের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসেরই প্রতিফলন হল একজন মুখ্যমন্ত্রীর আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজের বক্তব্য পেশ করা। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানায়, এই ইস্যুকে রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে আনা উচিত নয়।
আগেও আদালতে হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী
উল্লেখযোগ্যভাবে, ৪ ফেব্রুয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয়েছিলেন। সেই সময় নির্বাচন কমিশনের তরফে নিযুক্ত মাইক্রো অবজারভার নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। কমিশনের দাবি ছিল, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত জনবল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।











