কলকাতা/নয়াদিল্লি:
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। রাজনৈতিক কৌশল সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আই-প্যাক)-এর দপ্তর এবং সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈন-এর বাসভবনে প্রয়োগকারী সংস্থা ইডি-র হানার পর সরাসরি মাঠে নেমে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার ইডির অভিযানের পর শুক্রবার কলকাতায় প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বিশাল প্রতিবাদ মিছিল-এর নেতৃত্ব দেন তিনি। মিছিলটি যাদবপুর থেকে শুরু হয়ে হাজরা মোড়ে শেষ হয়। এই মিছিলে হাজার হাজার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। মিছিলের একেবারে সামনেই হাঁটতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে।
🔥 “গতকাল আমার কাছে ছিল পুনর্জন্মের মতো”
হাজরা মোড়ে জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইডির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ,
“অভিযানের সময় আমাদের দলের গোপন কৌশল, প্রার্থীদের তালিকা ও হার্ড ডিস্ক চুরি করার চেষ্টা হয়েছে।”
তিনি বলেন,
“গতকাল আমি যা করেছি, তা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী হিসেবে করেছি। আমি কোনো বেআইনি কাজ করিনি। কেউ যদি আমাকে রাজনৈতিকভাবে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে কি আত্মরক্ষার অধিকার আমার নেই? আমার ওপর আঘাত হলে আমি পুনর্জন্ম নেই। গতকাল আমার কাছে ছিল একেবারে পুনর্জন্মের মতো।”
🔍 “ইডি বিজেপির রাজনৈতিক এজেন্ডা পূরণ করছে”
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, তথাকথিত কয়লা কেলেঙ্কারির নাম করে ইডি আসলে বিজেপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ করছে। তাঁর দাবি,
“আমার কাছে সব প্রমাণ পেন ড্রাইভে আছে। সময় এলেই প্রকাশ করব। বহু শীর্ষ বিজেপি নেতা কয়লা কেলেঙ্কারির টাকার সঙ্গে যুক্ত।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
“মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় নির্বাচন চুরি হয়েছে। এবার নজর বাংলার দিকে। কিন্তু বাংলা মাথা নত করবে না।”
🚨 দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদদের আটক নিয়ে ক্ষুব্ধ মমতা
এই মিছিলের কয়েক ঘণ্টা আগেই দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর দপ্তরের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ আটজন তৃণমূল সাংসদকে দিল্লি পুলিশ আটক করে।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
“নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের রাস্তায় টেনে নিয়ে যাওয়া আইনশৃঙ্খলা নয়, এটা ইউনিফর্মের অহংকার। বিজেপির কাছে গণতন্ত্র মানে আজ্ঞাপালন, মতভিন্নতা নয়।”
⚖️ ইডি ও বিজেপির পাল্টা দাবি
ইডির তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযানের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরিয়ে নিয়ে তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেছেন। এই অভিযোগ নিয়ে সংস্থাটি কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করে। তবে আদালত চত্বরে হইচইয়ের জেরে শুনানি আপাতত স্থগিত রয়েছে।
বিজেপি নেতা ও মুখপাত্র রবিশঙ্কর প্রসাদ পাল্টা আক্রমণ করে বলেন,
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার চালাচ্ছেন। ইডি আধিকারিকদের ভয় দেখানো হয়েছে এবং প্রমাণ লুকোনোর চেষ্টা হয়েছে। এগুলো সবই এমন তথ্য বাঁচানোর চেষ্টা, যা তাঁকে ও তাঁর দলকে বিপদে ফেলতে পারে।”
🏢 আই-প্যাকের প্রতিক্রিয়া
আই-প্যাক এক বিবৃতিতে এই অভিযানে উদ্বেগ প্রকাশ করে একে ‘অশুভ দৃষ্টান্ত’ বলে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা বিজেপি, কংগ্রেস, আপ ও তৃণমূল কংগ্রেস-সহ সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পেশাদারভাবে কাজ করে এবং ভবিষ্যতেও সেই নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনার প্রভাব ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিকে আরও বেশি সংঘাতমুখী করে তুলবে।











