নয়াদিল্লি/কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বৃহস্পতিবার এক অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী থাকল দেশ। কলকাতায় নির্বাচন কৌশলবিদ ও আইপ্যাক সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে চলাকালীন প্রবर्तन নির্দেশালয় (ইডি)-র অভিযানের মধ্যেই সেখানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, অভিযান চলাকালীন তিনি সেখান থেকে একটি ফাইল ও একটি ল্যাপটপ সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যান।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। বিজেপি সাংসদ ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ এই ঘটনাকে “অনৈতিক, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অসাংবিধানিক” বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এমন নজির আগে কখনও দেখা যায়নি।
রবিশঙ্কর প্রসাদ সাংবাদিক বৈঠকে বলেন,
“যে জায়গায় অর্থপাচার সংক্রান্ত অভিযোগে একটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অভিযান চালাচ্ছে, সেখানে একজন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছে পড়ছেন, তদন্তকারী আধিকারিকদের সঙ্গে তর্ক করছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে চলে যাচ্ছেন—এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর সরাসরি আঘাত।”
বিজেপির দাবি, এই অভিযান মূলত কয়লা পাচার ও হাওয়ালা লেনদেন সংক্রান্ত তদন্তের অংশ। প্রতীক জৈনের কনসালটেন্সি সংস্থার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ইডি নিজেই তাদের সরকারি বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে, যা সংস্থার ওয়েবসাইটে উপলব্ধ রয়েছে।
রবিশঙ্কর প্রসাদ আরও স্পষ্ট করেন, এই অভিযান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি, কার্যালয়, তৃণমূল কংগ্রেসের অফিস কিংবা কোনও মন্ত্রী বা নেতার বাড়িতে নয়। এটি ছিল একটি ব্যক্তিগত কনসালটেন্সি সংস্থার বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান। তবুও মুখ্যমন্ত্রীর এইভাবে হস্তক্ষেপ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তিনি বলেন,
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৪ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী, তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও ছিলেন এবং প্রশাসনিক নিয়মকানুন ভালভাবেই বোঝেন। তা সত্ত্বেও যদি সমস্ত আইন, নিয়ম ও সাংবিধানিক শালীনতা উপেক্ষা করে সেখানে যাওয়া প্রয়োজন বলে মনে হয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—তিনি এতটা উদ্বিগ্ন কেন?”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিজেপির দাবি, বিষয়টির নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া জরুরি। অন্যদিকে, এই ইস্যু আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।











