কলকাতা / দিল্লি:
পশ্চিমবঙ্গে SIR (স্পেশাল সামারি রিভিশন) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সেই আবহেই এবার দিল্লি সফরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্দেশ্য একটাই—পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর নামে যা ঘটছে, তা জাতীয় স্তরে তুলে ধরা এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকারের উপর চাপ বাড়ানো।
গত ৪ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই দিনই কলকাতার রাস্তায় বিশাল মিছিল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মিছিল-পরবর্তী সভায় অভিষেক স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,
“নেত্রীর অনুমতি নিয়ে বলছি—একজন বৈধ ভোটারের নামও যদি বাদ যায়, আমরা এক লক্ষ মানুষ নিয়ে দিল্লি যাব।”
এরপর একাধিকবার একই সতর্কবার্তা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার রাজভবনে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ঘনিষ্ঠ মহলে স্পষ্ট করে দেন যে তিনি দিল্লি যাচ্ছেন। যদিও সফরের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত নয়।
প্রসঙ্গত, ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে বাজেট পেশ করবেন। তার আগে মঙ্গলবার কেন্দ্র সরকার একটি সর্বদল বৈঠক ডেকেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, সংসদ অধিবেশন চলাকালীনই দিল্লিতে যেতে পারেন মমতা, যাতে বিজেপি-বিরোধী বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ সম্ভব হয়। আবার অন্যদের মতে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেই দিল্লি সফর করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
যখনই দিল্লি যান না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্য পরিষ্কার—
পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর নামে বৈধ ভোটারদের হয়রানি ও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগকে জাতীয় ইস্যুতে পরিণত করা। পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কেন্দ্রের প্রকল্পে ‘বঞ্চনা’র অভিযোগে দিল্লিতে তৃণমূলের কর্মসূচির সময় বিপুল সংখ্যক গ্রেপ্তারির ঘটনা ঘটে। ফলে এবার যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আন্দোলনের মুখ হন, তাহলে তার প্রভাব যে অনেক বেশি হবে, তা বলাই বাহুল্য। দিল্লি পুলিশ যেহেতু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে, তাই প্রশাসনিক প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বিহার, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র ও দিল্লির নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কথিত ‘কারসাজি’ ধরতে না পারায় সেখানে বিজেপি জিতেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বুথ স্তরে সেই ‘খেলা’ ধরে ফেলেছে তৃণমূল। দলের ঘনিষ্ঠ নেতাদের মতে, কংগ্রেস যেখানে শুধু প্রজেক্টরে ভোট চুরির কথা দেখিয়েছে, তৃণমূল সেখানে মাঠে নেমে বাস্তবে তা কার্যকর করেছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের বিশ্বাস, দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি উপস্থিতি এই ইস্যুকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসবে এবং বিজেপি-বিরোধী রাজনীতিতে তৃণমূলের ভূমিকা আরও জোরদার হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার প্রকাশ্যে এবং ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, SIR নিয়ে তাঁর লড়াই চলবে। তাঁর বক্তব্য, বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার পাশাপাশি SIR-এর নামে সাধারণ মানুষের যে হয়রানি হচ্ছে, তার বিরুদ্ধেও তিনি রুখে দাঁড়াবেন।
মুখ্যমন্ত্রীর এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর কথায়,
“২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন মাথায় রেখে বিজেপি তড়িঘড়ি এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সামান্য নাম বা পদবির ভুলে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হচ্ছে। মানুষ ক্ষুব্ধ, অসন্তুষ্ট। আমরা সেই অসহায় মানুষের পাশে আছি, আমাদের নেত্রীও আছেন।”











