নেতাজি জয়ন্তীতে রেড রোড থেকে দিল্লির বিরুদ্ধে গর্জন মমতার

single balaji

কলকাতা:
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রেড রোডে নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদান করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাল্যদানের পর রাজ্য ও দেশের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরব হন এবং কেন্দ্রীয় শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান।

নাম না করে বিজেপিকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে এবং মহান নেতাদের অপমান করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, মহাত্মা গান্ধী, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও ড. বাবাসাহেব আম্বেদকরের মতো ব্যক্তিত্বদের প্রতি অসহিষ্ণুতা ও অসম্মান দেখানো হচ্ছে, যা দেশের পরিচয় ও আত্মসম্মানের উপর আঘাত।

🗣️ ‘বাংলা চুপ করে থাকবে না’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই অপমানের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষ রুখে দাঁড়াবে। নেতাজির ঐতিহাসিক “দিল্লি চলো” স্লোগান উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“নেতাজি দিল্লি চলো বলেছিলেন, কিন্তু আজ সেই দিল্লিই প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র করছে।”

🏛️ নীতি আয়োগ নিয়ে প্রশ্ন

পরিকল্পনা কমিশন তুলে দিয়ে নীতি আয়োগ গঠনের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এর প্রকৃত উদ্দেশ্য আজও স্পষ্ট নয়। সাধারণ মানুষের উপকারে এই ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

🇮🇳 জাতীয় ছুটি না হওয়ায় ক্ষোভ

মুখ্যমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, কেন্দ্রে সরকার বদলালেও আজ পর্যন্ত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনকে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। তিনি বলেন, দেশকে স্বাধীন করতে গিয়ে নেতাজি বিদেশে গিয়েছিলেন এবং আর ফিরে আসেননি, তাই তাঁর জন্মদিন উদযাপন করা যায়, কিন্তু মৃত্যুবার্ষিকীর কথা বলা যায় না।

🗳️ এনআরসি ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য

এনআরসি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন,
“যাঁরা ফাঁসির মঞ্চে প্রাণ দিয়েছিলেন, তাঁরা কোথায় গেলেন? সবচেয়ে বেশি বলিদান দিয়েছে বাংলা।”

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় টেলিপ্রম্পটারে দু’-চারটি বাংলা শব্দ লিখে আনা হয়। পাশাপাশি তিনি বলেন, এত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, তার দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা কেন নেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

✍️ নাম ও পরিচয় নিয়ে কড়া বার্তা

ভাষণের শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
“আমি ইংরেজিতে মমতা ব্যানার্জি লিখি, বাংলায় বন্দ্যোপাধ্যায় লিখি। এটুকুও যারা জানে না, তাদের লজ্জা হওয়া উচিত।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আগামী দিনে এই ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ghanty

Leave a comment