মালদা: পশ্চিমবঙ্গে চলমান বিশেষ গহন পুনর্নিরীক্ষণ (Special Intensive Revision – SIR) কর্মসূচির মাঝেই একের পর এক অশান্তির ঘটনা সামনে আসছে। শনিবার মালদা জেলার চাঁচল থানার অন্তর্গত এলাকায় এক বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-এর উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় BLO-র ভাতিজা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর গোটা এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁচল ব্লক-১-এর খরবা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন বুথ নম্বর ১৯৩-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত BLO আনিসুর রহমান SIR সংক্রান্ত কাজ করছিলেন। সেই সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর উপর চড়াও হয়। অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁর কলার ধরে টানাহেঁচড়া করে।
BLO-কে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তাঁর ভাতিজা নুরুল ইসলাম। তখনই তাঁর মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় নুরুল ইসলামকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর আঘাত গুরুতর।
জানা গেছে, শুনানির নোটিস দেওয়া নিয়ে এই বিবাদের সূত্রপাত। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট একটি পরিবার ওই এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করত না, যার ফলে BLO নোটিস দিতে পারেননি। এরপর প্রাক্তন কংগ্রেস পঞ্চায়েত সদস্য সাজেদা বেওয়া এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা BLO-র কাছে নোটিস দাবি করেন। BLO জানান, নিয়ম অনুযায়ী নোটিস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই দেওয়া হবে। এই কথার পরই তাঁর উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার প্রেক্ষিতে চাঁচল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাক্তন কংগ্রেস পঞ্চায়েত সদস্য সাজেদা বেওয়া, তাঁর ভাই রাবিউল ইসলাম, স্বামী হুসেন আলি ও মেহদি হুসেনের বিরুদ্ধে FIR দায়ের হয়েছে। যদিও সাজেদা বেওয়া মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। চাঁচল তৃণমূল ব্লক সভাপতি শেখ আফসার আলি বলেন, “দল BLO-র পাশে রয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত সরকারি কর্মীদের উপর হামলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”
অন্যদিকে কংগ্রেস অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে, এটি সম্পূর্ণভাবে গ্রামের অভ্যন্তরীণ বিবাদ এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।
বর্তমানে পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটার পুনর্নিরীক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে এই ধরনের ঘটনা প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।











