মালদহ কাণ্ডে ‘নির্দোষ’ গ্রেপ্তার! নির্বাচন কমিশনকে তোপ মমতার, পাল্টা বিজেপির বিস্ফোরক দাবি

single balaji

মালদহ: ভোটের আবহে হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মালদহের রাজনীতি। কালিয়াচকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক তরজা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছেন, “আসল দোষীদের ছেড়ে নির্দোষ মানুষদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।” অন্যদিকে বিজেপি পাল্টা দাবি করেছে, ধৃতদের সঙ্গে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—ঠিক কোন দিকে এগোচ্ছে এই তদন্ত?

মাঠাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে প্রিসাইডিং অফিসারদের ঘেরাও এবং পরবর্তী বিশৃঙ্খলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার মালদহের মানিকচক, মালতীপুর ও গাজোলে সভা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যারা অপরাধ করেছে তারা ধরা পড়ছে না, অথচ সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।” তিনি আরও দাবি করেন, এই ঘটনার পিছনে ‘বহিরাগত দুষ্কৃতীদের’ ভূমিকা রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, “এই ধরনের ঘটনা আর যেন না ঘটে। কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নেবেন না। বাইরে থেকে কারা আসছে, কোথায় থাকছে—সেই দিকে নজর রাখতে হবে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভোটের আগে অশান্তি তৈরির জন্য বাইরে থেকে টাকা ও লোক আনা হচ্ছে।

এদিকে বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, “পুরো ঘটনাটাই তৃণমূলের পরিকল্পিত চক্রান্ত। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা মমতার মঞ্চে দেখা গেছে।” বিজেপির অভিযোগ, জাতীয় সড়ক অবরোধ করে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা ছিল একটি বড় ষড়যন্ত্র।

এই ঘটনায় ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন মোফাক্কেরুল ইসলাম, যিনি মাঠাবাড়ির ISF প্রার্থী এবং মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। জানা গেছে, ২০২১ সালে তিনি আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দলের হয়ে নির্বাচন লড়েছিলেন। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর তৃণমূল ঘনিষ্ঠতার দাবিও উঠছে, যা এখনও যাচাই করা হয়নি।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে NIA। কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রিসাইডিং অফিসারদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি পুলিশ সুপারের দপ্তর, থানার রেকর্ড এবং বিডিও অফিস থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে মালদহের এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখন দেখার, NIA-র তদন্তে কী উঠে আসে এবং এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।

ezgif 263be683d19f0d34
ghanty

Leave a comment