সালানপুর | পশ্চিম বর্ধমান–ঝাড়খণ্ড সীমান্ত
প্রতি বছরের মতো চলতি বছরও মাইথন পর্যটন এলাকায় প্রবেশমূল্য আদায় শুরু হয়েছে। পিকনিকের মরশুম শুরু হতেই পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক ভিড় জমাচ্ছেন মাইথন জলাধার এলাকায়। শীতকালে মাইথনের মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঠান্ডা হাওয়া ও বিস্তীর্ণ জলরাশি পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।
মাইথন জলাধারের থার্ড ডাইক, ফায়ারিং রেঞ্জ, সিদাবাড়ি ও সুলেমান পার্ক দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় পিকনিক স্পট হিসেবে পরিচিত। ডিসেম্বর মাস পড়তেই পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বনভোজনের আনন্দে মেতে ওঠেন সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি রয়েছে নৌকাবিহারের ব্যবস্থাও।
প্রবেশমূল্য নেওয়া হলেও সুবিধা কোথায়?
তবে পর্যটকদের একাংশের অভিযোগ, প্রবেশমূল্য নেওয়া হলেও তার বিনিময়ে ন্যূনতম পরিকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা নেই। তাঁদের দাবি—
- পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই
- শৌচাগারের সংখ্যা কম ও অবস্থা শোচনীয়
- সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জার অভাব
- পিকনিক স্পট জুড়ে নোংরা ও আবর্জনার স্তূপ
অনেক পর্যটকের অভিযোগ, পিকনিক এলাকায় গরু ও কুকুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য দুটোই ব্যাহত হচ্ছে।
থার্মোকল নিষিদ্ধ শুধু কথায়?
ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে থার্মোকল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই বলেই অভিযোগ। পিকনিক এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে থার্মোকলের প্লেট ও বাটি, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
নৌকাবিহারে লাইফ জ্যাকেট নেই, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
নৌকাবিহার নিয়েও উঠছে গুরুতর প্রশ্ন। অনেক ক্ষেত্রেই পর্যটকদের লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই নৌকায় তোলা হচ্ছে। পুলিশের পর্যাপ্ত নজরদারিও নেই বলে অভিযোগ।
নৌকা চালকদের দাবি, এই মুহূর্তে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট নেই, তবে নতুন করে লাইফ জ্যাকেট অর্ডার দেওয়া হয়েছে।
প্রবেশমূল্যের হার ঘিরে ক্ষোভ
স্থানীয় সূত্র ও পর্যটকদের মতে, বর্তমানে প্রবেশমূল্য আদায় করা হচ্ছে—
- বড় বাস: ₹২৫০
- মিনি বাস: ₹২০০
- চারচাকা যান: ₹১৫০
- অটো/টোটো: ₹৫০
- পিকনিক স্পট পরিষ্কারের নামে অতিরিক্ত ₹৫০–₹১০০
সবচেয়ে বিতর্কের বিষয়, অনেকের অভিযোগ পিকনিক না করেও শুধুমাত্র রাস্তা দিয়ে গেলেও প্রবেশমূল্য দিতে হচ্ছে।
পর্যটকদের প্রশ্ন—এই টাকা কিসের জন্য?
পর্যটকদের একটাই প্রশ্ন—যদি প্রবেশমূল্য নেওয়া হয়, তবে কেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে না? প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।











