‘নো-এন্ট্রি’র নামে জাতীয় সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যাম! ক্ষোভে ফুঁসছেন ট্রাকচালকেরা

single balaji

আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমান: শিল্পাঞ্চল আসানসোলের চৌরঙ্গি পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার মধ্যে দিয়ে যাওয়া দিল্লি-কলকাতা জাতীয় সড়কে গত আট মাস ধরে নিত্যদিনের ছবি—দীর্ঘ যানজট। যে সড়কে গাড়ির গতি সাধারণত ঝড়ের মতো, সেখানে এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে কয়লাবোঝাই ট্রাকগুলিকে।

চালকদের অভিযোগ, কুলটি ট্রাফিক পুলিশ সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ‘নো-এন্ট্রি’ নির্দেশের কথা জানিয়ে ট্রাকগুলিকে জাতীয় সড়কের ধারে দাঁড় করিয়ে রাখছে। অথচ ইসিএলের বেনজমারি কোলিয়ারি থেকে কয়লা বোঝাই করে বেরোনোর সময় কোনও বাধা নেই। সমস্যা শুরু হচ্ছে জাতীয় সড়কে ওঠার পরই।

এই ট্রাকগুলি জামুড়িয়া, রানিগঞ্জ, দুর্গাপুর-সহ একাধিক শিল্পাঞ্চলে কয়লা সরবরাহ করে। কিন্তু চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার ফলে একের পর এক শতাধিক গাড়ির লম্বা লাইন তৈরি হচ্ছে। এতে যেমন সাধারণ মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।

চালকদের দাবি, আগে এভাবে হয়রানি করা হতো না। গত আট মাস ধরে হঠাৎ এই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এমনকি কারখানায় পণ্য খালাস করে ফেরা গাড়িগুলিকেও একইভাবে আটকে রাখা হচ্ছে। ফলে দিল্লি-কলকাতা তো বটেই, কলকাতা-দিল্লি দিকের জাতীয় সড়কও কার্যত অচল হয়ে পড়ছে ‘নো-এন্ট্রি’র অজুহাতে।

আরও অভিযোগ, অন্য রাজ্য থেকে আসা পরিবহণের গাড়িগুলি নির্বিঘ্নে চলাচল করলেও স্থানীয় কয়লা পরিবহণের গাড়িগুলিকেই বেশি বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন চালকেরা।

পরিবহণ শ্রমিকদের একাংশ জানিয়েছেন, বিষয়টি কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। প্রতিদিন দেরির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরাও।

স্থানীয় মহলের মতে, শিল্পাঞ্চলের অর্থনীতি অনেকাংশে নির্ভর করে এই কয়লা পরিবহণের উপর। যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে শিল্প উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে। এখন প্রশ্ন উঠছে—যানজট কমাতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে?

ট্রাকচালকদের একটাই দাবি—স্বচ্ছ ও সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, যাতে জাতীয় সড়কে অযথা জ্যাম সৃষ্টি না হয় এবং প্রতিদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মেলে।

ghanty

Leave a comment