শিক্ষা দপ্তরের অনুমতি ছাড়াই সিদ্ধান্ত! কুলতিতে ছাত্র ভবিষ্যত অন্ধকারে

single balaji

কুলতি, পশ্চিম বর্ধমান |
কুলতি বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত বারাকার শ্রী মারোয়ারি বিদ্যালয়ে ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি বন্ধ করার সিদ্ধান্তে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বিদ্যালয় পরিচালকের পক্ষ থেকে শিক্ষা দপ্তরের অনুমতি ছাড়াই।

📌 ‘শিক্ষক নেই’ অজুহাতে বড় সিদ্ধান্ত

বিদ্যালয়ের টিচার ইন-চার্জ দীপিকা রাই জানিয়েছেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে হিন্দি, ইংরেজি, ইতিহাস, অর্থনীতি, রসায়ন ও ব্যবসা শিক্ষার শিক্ষক নেই। ফলে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৯ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ভর্তির ফর্ম বিতরণ হবে।

🗣️ সভাপতি স্বীকার করলেন, শিক্ষা দপ্তরকে না জানিয়েই দেওয়া হয়েছিল নোটিস

বিদ্যালয়ের সভাপতি পাপ্পু সিং নিজেই স্বীকার করেছেন, এই সিদ্ধান্ত শিক্ষা দপ্তরের অনুমতি ছাড়াই নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান,
“আমরা জানি আশপাশের তিন-চারটি স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করে পড়ুয়ারা এখানে আসে। তাদের ভবিষ্যত যেন অন্ধকারে না যায়, সেই কারণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

🏛️ বিজেপি বিধায়কের কড়া প্রতিক্রিয়া

কুলতির বিজেপি বিধায়ক বলেন,
“এই স্কুলে একসময় মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ানো হত। পরে উচ্চ মাধ্যমিক চালু হওয়ায় বহু ছাত্রছাত্রী উপকৃত হয়। আজ হঠাৎ করে শিক্ষক সংকটের অজুহাতে ভর্তি বন্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে—এটা সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা।”

তিনি বিধানসভায় কুলতিতে কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে এসেছেন এবং ভবিষ্যতেও জানাবেন। পাশাপাশি তিনি রাজ্য সরকারকে অনুরোধ করেছেন, অবিলম্বে ভর্তি চালুর নির্দেশ জারি করা হোক।

🏠 ‘খোলা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি’ – বিকল্প নাকি বঞ্চনা?

বিদ্যালয় পরিচালনার পক্ষ থেকে মাধ্যমিক পাশ করা ছাত্রছাত্রীদের ‘খোলা বিশ্ববিদ্যালয়ে’ ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। যেখানে ক্লাসে উপস্থিতির প্রয়োজন নেই, শুধু পরীক্ষার সময় কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হবে।

এই নির্দেশে শিক্ষা দপ্তরও বিস্মিত। অভিভাবকদের প্রশ্ন –
“বাচ্চারা কীভাবে বাড়িতে বসে নিজেরাই পড়াশোনা করবে? তাহলে তো শিক্ষা পদ্ধতিই ধ্বংসের পথে!”

📆 আজ জরুরি বৈঠক, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা

আজ সোমবার বিদ্যালয়ে অভিভাবক-শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির মধ্যে বৈঠক চলছে। সমস্যা ব্যাখ্যা করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। ফর্ম বিতরণের তারিখ ঘোষণা ইতিমধ্যেই করে ফেলা হয়েছে – ৯ থেকে ১১ জুন।

🔍 শিক্ষার প্রশ্নে রাজনীতি নয়, চাই স্থায়ী সমাধান

এই ঘটনা পশ্চিম বর্ধমানের শিক্ষা পরিকাঠামোর দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
“এই সমস্যা শিক্ষক নিয়োগ এবং বিদ্যালয়ের বুনিয়াদি সংস্কারের সঙ্গে জড়িত। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও স্কুলের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হবে।”

ghanty

Leave a comment