আসানসোল, পশ্চিমবঙ্গ:
কম্বল বিতরণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল আসানসোলে। বিজেপি নেতা কৃষ্ণ প্রসাদ অভিযোগ করেছেন, একটি পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্তের মাধ্যমে তাঁকে ভুয়ো মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আসানসোলের কল্লা মোড়স্থিত বিজেপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান।
কৃষ্ণ প্রসাদ জানান, বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত কম্বল বিতরণ কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল। সেই সময় হঠাৎ করেই রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটকের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তৃণমূল নেতা মনোজিত হেমব্রম তাঁর সমর্থকদের নিয়ে সেখানে হাজির হন এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান তুলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন। এরপর পরিকল্পিতভাবে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করা হয় বলে অভিযোগ।
তিনি দাবি করেন, ঘটনার সম্পূর্ণ ভিডিও প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে। কৃষ্ণ প্রসাদের আরও অভিযোগ, যাঁর নামে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, সেই মহিলা ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের আশপাশেও উপস্থিত ছিলেন না। এর থেকেই স্পষ্ট, গোটা ঘটনাটি তাঁকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে সাজানো চক্রান্ত।
বিজেপি নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস যতই ভুয়ো মামলা করুক না কেন, বিজেপি কর্মীরা ভয় পাওয়ার পাত্র নয়। তাঁর দাবি, রাজ্যে তৃণমূলের জনসমর্থন দ্রুত কমছে, আর বিজেপির শক্তি ক্রমেই বাড়ছে। সেই কারণেই ক্ষমতার মাটি পায়ের তলা থেকে সরে যাচ্ছে বুঝে তৃণমূল এই ধরনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে নেমেছে।
অবৈধ কয়লা ও বালি পাচার সংক্রান্ত ইডির অভিযান প্রসঙ্গে কৃষ্ণ প্রসাদ বলেন, এই বেআইনি কারবার থেকেই তৃণমূলের নির্বাচনী তহবিল গড়ে উঠেছিল। এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি সেই অর্থের উপর নজর রেখে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে।
এছাড়াও তিনি সাফাইকর্মী ও আশা কর্মীদের চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁদেরও পরিবার ও সন্তান রয়েছে। নিজেদের ভবিষ্যতের দাবিতে আন্দোলন করলে সরকারকে তা গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। অথচ সরকার তা উপেক্ষা করে শুধুই উন্নয়নের বড় বড় দাবি করছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে কৃষ্ণ প্রসাদ স্পষ্ট করে বলেন, যে জমির অভিযোগ তুলে তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে, সেই এলাকায় তাঁর নামে এক ইঞ্চি জমিও নেই। পুরো বিষয়টিকে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেন।











