শিবরাত্রির মেলায় খাবার খেয়ে অসুস্থ ১৭৫ জন! অধিকাংশই শিশু, চাঞ্চল্য ঝাড়খণ্ডে

single balaji

ঝাড়খণ্ডের পালামু জেলায় শিবরাত্রি উপলক্ষে আয়োজিত একটি মেলাকে কেন্দ্র করে বড়সড় স্বাস্থ্য সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। মেলায় খাবার খাওয়ার পর অন্তত ১৭৫ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

রবিবার পালামু জেলার দ্বারকা গ্রামে শিবরাত্রি উপলক্ষে মেলার আয়োজন করা হয়। গ্রামবাসীরা সেখানে প্রসাদ ও অন্যান্য খাবার গ্রহণ করেন। কিন্তু সন্ধ্যা গড়াতেই একের পর এক মানুষের শরীরে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে।

রাতেই শুরু বমি, পেটব্যথা, ডায়রিয়া

সোমবার পালামু জেলা প্রশাসন জানায়, রবিবার রাত থেকেই গ্রামবাসীদের মধ্যে বমি, ডায়রিয়া ও তীব্র পেটব্যথার উপসর্গ দেখা যায়। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠায় সকল অসুস্থ ব্যক্তিকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসার পর অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, তবে এখনও ২২ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শিশুদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকরা বিশেষভাবে নজর রাখছেন।

প্রাথমিক অনুমান: খাদ্যে বিষক্রিয়া

জেলার সরকারি চিকিৎসক ডাঃ অনিল কুমার শ্রীবাস্তব বলেন,
“প্রাথমিকভাবে আমরা খাদ্যে বিষক্রিয়ার সন্দেহ করছি। তবে পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না।”

তিনি আরও জানান, অসুস্থ শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

প্রশাসনের তদন্ত শুরু

ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। মেলায় বিতরণ করা খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আয়োজক ও খাদ্য সরবরাহকারীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, যদি কোনও গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশ্ন উঠছে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে

বড় ধর্মীয় উৎসবে হাজার হাজার মানুষ একত্রিত হন। সেখানে খাদ্যের মান ও সংরক্ষণ পদ্ধতি সঠিক না হলে এমন বিপদ ঘটতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত। এই ঘটনার পর খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

গ্রামবাসীদের অনেকেই আতঙ্কিত। তাঁদের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানা হোক।

সতর্কবার্তা

স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, বমি, ডায়রিয়া বা পেটব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। নিজে থেকে ওষুধ সেবন না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

এখন সকলের নজর তদন্তের রিপোর্টের দিকে—আসলেই কি খাদ্যে বিষক্রিয়া, নাকি অন্য কোনও কারণ লুকিয়ে রয়েছে এই ঘটনার আড়ালে?

ghanty

Leave a comment