I-PAC–কে ১৩.৫ কোটির ঋণ দেওয়া সংস্থা নথিতে উধাও, নথিতে গুরুতর অসঙ্গতি

single balaji

নয়াদিল্লি:
ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (I-PAC) ফের বিতর্কের কেন্দ্রে। এবার অভিযোগ তাদের আর্থিক লেনদেন ঘিরে। প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালে I-PAC একটি হরিয়ানাভিত্তিক সংস্থা থেকে ১৩.৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। কিন্তু তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—যে সংস্থা এই ঋণ দিয়েছে বলে দাবি, সেই সংস্থার তৎকালীন কোনও আইনি অস্তিত্বই ছিল না

নথিতে ঋণদাতা সংস্থার নাম হিসেবে উল্লেখ রয়েছে রাম সেতু ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড (RIIPL)। কিন্তু রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিজ (ROC)-এর রেকর্ড ঘেঁটে দেখা যায়, এই নামে কোনও সক্রিয় সংস্থা ওই সময়ে নথিভুক্ত ছিল না

কর্পোরেট ডেটা অ্যাগ্রিগেটর জৌবা কর্প–এর তথ্য অনুযায়ী, RIIPL গঠিত হয়েছিল ১৮ ডিসেম্বর ২০১৩ সালে। সংস্থাটি মূলত রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এর অনুমোদিত শেয়ার মূলধন ছিল মাত্র ৫ লক্ষ টাকা। সংস্থার দুই ডিরেক্টরের নাম ছিল বীরেন্দ্র ও বিক্রম

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, কোম্পানি আইন-এর ধারা ২৪৮(১) অনুযায়ী ১৮ আগস্ট ২০১৮ তারিখে RIIPL–এর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়। অভিযোগ ছিল—সংস্থাটি ব্যবসা বন্ধ রেখেছিল, কোনও কার্যক্রম চালাচ্ছিল না এবং আইনি বিধি মানেনি।

এই অবস্থায় বিস্ময়করভাবে দেখা যাচ্ছে, লাইসেন্স বাতিল হওয়ার প্রায় তিন বছর পরে, অর্থাৎ ২০২১ সালে, ওই একই সংস্থার নামেই I-PAC–এর খাতায় ১৩.৫ কোটি টাকার ঋণ গ্রহণের উল্লেখ রয়েছে। এই তথ্য সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

আর্থিক নথি আরও জানাচ্ছে, I-PAC এই ঋণের একটি অংশ ফেরত দিয়েছে, তবে এখনও বড় অঙ্কের টাকা বকেয়া রয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ফের একবার I-PAC–এর আর্থিক স্বচ্ছতা ও হিসাবপত্র নিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি উঠতে শুরু করেছে।

রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থার ক্ষেত্রে এমন আর্থিক অসঙ্গতি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনায় নথিভিত্তিক ত্রুটি, গুরুতর গাফিলতি অথবা আরও বড় কোনও আর্থিক অনিয়ম লুকিয়ে থাকতে পারে, যার বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।

ghanty

Leave a comment