নয়াদিল্লি:
বিশ্বজুড়ে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুততমই থাকবে বলে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংসদে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন উপস্থাপিত অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, আগামী অর্থবর্ষ ২০২৬-২৭-এ ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬.৮ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে।
অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ভারতের এই শক্তিশালী অবস্থানের পেছনে রয়েছে দেশীয় চাহিদার দৃঢ়তা, পরিষেবা খাতের ধারাবাহিক সাফল্য এবং নিয়ন্ত্রিত মুদ্রাস্ফীতি। তবে আন্তর্জাতিক স্তরে চলমান বাণিজ্যিক টানাপোড়েন ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে ভারতের অতিরিক্ত সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সমীক্ষায় আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, চলতি ক্যালেন্ডার বছরে যদি ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কোনও বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন না হয়, তবে তা ভবিষ্যতে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে আমেরিকায় রপ্তানির বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়াকে একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ইতিবাচক দিক হলো, চলতি অর্থবর্ষ ২০২৫-২৬-এ আমেরিকার পক্ষ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ সত্ত্বেও, পরিষেবা খাতের রপ্তানিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি বজায় থাকায় ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৭.৪ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর সময়কালে পণ্য ও পরিষেবা মিলিয়ে ভারতের মোট রপ্তানি ৫.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মাঝেও একটি আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত।
মুদ্রাস্ফীতির ক্ষেত্রেও স্বস্তির খবর মিলেছে। সমীক্ষা জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার ২.৯ শতাংশ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। কম মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ ও ভোগব্যয়কেও উৎসাহিত করছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল না হলে, আগামী দিনেও ভারত বিশ্ব অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখবে।











