আসানসোল/কুলটি:
পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্গত কুলটি থানার বডিরা এলাকায় ফের অবৈধ কয়লা পাচারের ভয়াবহ পরিণতি সামনে এল। অভিযোগ, BCCL-এর একটি অবৈধ কয়লা খনিতে দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনিভাবে কয়লা তোলা হচ্ছিল। সেই সময় হঠাৎই খনির একটি অংশে ধস নামলে কয়লার মাটির নিচে চাপা পড়ে তিনজনের মৃত্যু হয় এবং দু’জন গুরুতরভাবে আহত হন। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার সময় একাধিক ব্যক্তি খনির ভেতরে অবৈধভাবে কয়লা তুলছিলেন। আচমকা ধস নামায় তারা বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
বিজেপি বিধায়কের গুরুতর অভিযোগ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুলটির বিজেপি বিধায়ক ডা. অজয় পোদ্দার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, কুলটি এলাকায় অবৈধ কয়লা ব্যবসা প্রকাশ্যেই চলছে। তার দাবি, একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়লা সংক্রান্ত ফাইল ইডি-র হাত থেকে কেড়ে নিয়ে যান, অন্যদিকে আসানসোলের কুলটি এলাকায় অবাধে কয়লা পাচার চলছে, যার জেরে আজ তিনজনের প্রাণ চলে গেল এবং দু’জন গুরুতর আহত।

ডা. পোদ্দার আরও বলেন, মৃত ও আহতরা সকলেই অবৈধভাবে কয়লা চুরি করতে এসেছিলেন। তবে এই মৃত্যুর জন্য প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অবৈধ খনন রুখতে না পারার দায় এড়ানো যায় না।
সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও নেই
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত BCCL-এর পক্ষ থেকে কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ প্রশাসনও আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। তবে যে ছবি ও ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, অভিযোগ অনুযায়ী কয়লা পাচারকারীরা মৃতদেহ নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে, যা গোটা ঘটনাকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।
ফের প্রশ্নের মুখে অবৈধ খনন
কুলটি ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ কয়লা খননের অভিযোগ নতুন নয়। বারবার এমন ঘটনা সামনে এলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সময়মতো কড়া পদক্ষেপ নিলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।
বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।











