⚠️ কালিপাহাড়িতে ফের ধসের আতঙ্ক! অবৈধ কয়লা খাদানের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর বিদ্রোহ

single balaji

📍আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমান :
আসানসোলের দক্ষিণ থানার অন্তর্গত কালিপাহাড়ি অঞ্চলে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে অবৈধ কয়লা খাদানের দৌরাত্ম্য। সোমবার সকাল থেকে এলাকা জুড়ে উত্তেজনা ছড়ায়, যখন স্থানীয় গ্রামবাসীরা জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তার দাবিতে রাস্তায় নেমে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, এলাকার কোলিয়ারির এজেন্ট অফিসের পাশে বহুদিন ধরে গোপনে অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলন চলছিল, যার ফলে বারবার মাটিধসের ঘটনা ঘটছে। বেশ কিছু বাড়ির দেওয়ালে ফাটল ধরেছে, মাটিতে তৈরি হয়েছে গহ্বর, আর রাতে ঘুমোতে গেলেও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

🚨 “ধস নামলে রেললাইনও গিলে খাবে মাটি!” — আতঙ্কে স্থানীয়রা

কালিপাহাড়ি এলাকা থেকে মাত্র ৫০০-৭০০ মিটার দূরেই রয়েছে হাওড়া–নিউ দিল্লি প্রধান রেললাইন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যদি এই অবৈধ খাদানে ফের বড় ধস নামে, তবে বড়সড় রেল দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।

গ্রামবাসীদের দাবি — “প্রতিদিন রাতের অন্ধকারে ট্রাক ভর্তি কয়লা পাচার হয়। পুলিশ সব জানে, তবুও চুপ করে থাকে। এখন আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙছে, রেললাইনও বিপদে।”

⚒️ “বিহার-ঝাড়খণ্ড থেকে শ্রমিক এনে রাতারাতি খনন!” — স্থানীয়দের বিস্ফোরক দাবি

সূত্রের খবর, বর্ষার পর ফের নতুন করে অবৈধ খনন শুরু করে কয়লা মাফিয়ারা, এমনকি শ্রমিক এনে কাজ শুরু করেছিল ঝাড়খণ্ড ও বিহার থেকে। কিন্তু গ্রামবাসীরা একজোট হয়ে সেই কাজ বন্ধ করে দেন।

একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে যাচ্ছে, বাচ্চারা স্কুল যেতে ভয় পাচ্ছে। এই অবৈধ খনন আর চলবে না।”

🧱 প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা

ঘটনাস্থলে পুলিশ বা কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় জনরোষ আরও বেড়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

এখন প্রশ্ন একটাই — এই আন্দোলনের পর প্রশাসন কতটা কড়া ব্যবস্থা নেবে? নাকি কালিপাহাড়ির মানুষ আবারও ধসের আতঙ্কে রাত কাটাবেন?

“আমরা আমাদের মাটি রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাব!” — ঘোষণা গ্রামবাসীদের

বিক্ষোভকারীরা বলেন, “আমরা আমাদের ঘরবাড়ি, আমাদের মাটি রক্ষার জন্য লড়ব। কোনোভাবেই অবৈধ কয়লা খনন চলতে দেব না।”
তাদের দাবি, অবিলম্বে অবৈধ খনন বন্ধ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।

ghanty

Leave a comment