শিল্পাঞ্চলে ফের কালো কয়লার অন্ধকার! পুলিশের চোখের সামনে অবৈধ খনি মৃত্যুকূপে পরিণত

single balaji

আসানসোল: শিল্পাঞ্চলের বুকে ফের অবৈধ কয়লা খনির মৃত্যু! শনিবার ভোরে বরাবানির চরানপুর ওপেন কাস্ট প্রজেক্ট (OCP)-এ ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। অবৈধভাবে কয়লা কাটতে নেমে ধসের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারাল এক যুবক, নিখোঁজ তাঁর বাবা। এলাকায় ছড়িয়েছে আতঙ্ক, ক্ষোভ ও কান্নার স্রোত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোররাতে প্রায় এক ডজন শ্রমিক অবৈধভাবে কয়লা কাটছিলেন চরানপুরের ওই খনিতে। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় ছিল মাত্র দু’জন — ডোমহানি বাজারের বাসিন্দা সৌরভ গোস্বামী (১৮) ও তাঁর বাবা নিমাই গোস্বামী। হঠাৎ মাটি ধসে পড়ায় দু’জনেই চাপা পড়ে যান। সকালবেলায় খবর পেয়ে বরাবানির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। সৌরভের দেহ উদ্ধার করা গেলেও নিমাই গোস্বামী এখনও নিখোঁজ। অনুমান, তিনিও মৃত।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনায় প্রায় অর্ধডজন শ্রমিক ধসে চাপা পড়েছেন, যাঁদের মধ্যে অন্তত চারজন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা বলে দাবি স্থানীয়দের। এখনও পর্যন্ত পুলিশের তরফে কোনও সরকারি বিবৃতি মেলেনি। মৃতদেহ পাঠানো হয়েছে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য।

1 6

অন্ধকারে মৃত্যুর খেলা

চরানপুরের এই দুর্ঘটনা ফের প্রমাণ করল— অবৈধ কয়লা খনির অন্ধকার আজও গিলে খাচ্ছে শিলপাঞ্চলের জীবন। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও এইভাবে প্রাণ হারাচ্ছেন গরিব শ্রমিকেরা। জীবিকার তাগিদে কেউ নামছেন অন্ধকারে, কেউ নামছেন লোভে— কিন্তু ফিরে আসছেন না আর কেউ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ ও CISF সব জেনেও চোখ বুজে আছে। রাতের অন্ধকারে ট্রাকভর্তি কয়লা বেরিয়ে যাচ্ছে খনি থেকে, অথচ পাহারাদারদের নজরে পড়ছে না কিছুই!

⚠️ “আমার ছেলে চোর নয়”— মায়ের আর্তনাদ

আসানসোল জেলা হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মৃত সৌরভের মা। তিনি বারবার বলছেন,

“আমার ছেলে চোর নয়! কাজ খুঁজতে গিয়েছিল, এতেই কি অপরাধ করল?”
তারপর যোগ করেন,
“আমরা গরিব মানুষ, খেতে পাই না, সে কাজ খুঁজতে গিয়েছিল, মাটির তলায় চলে গেল…”

এই কান্না যেন গোটা শিল্পাঞ্চলের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে।

2 6

অবৈধ খনি চলছে দিনের আলোয়

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বহুদিন ধরে অবৈধ খনন চলছে চরানপুর, সলানপুর, রানিগঞ্জ ও বরাবানির এলাকায়। রাত নামলেই খনিতে ঢুকে পড়েন অসংখ্য শ্রমিক। CISF ও কমিশনারেট পুলিশের উপস্থিতিতেই এই অবৈধ খনন কীভাবে চলছে, সেই প্রশ্নে তোলপাড় গোটা জেলা।

কয়েকদিন আগেই খোত্তাডিহ ও জামুড়িয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে বাইক ও সাইকেলে বোঝাই কয়লা বাজেয়াপ্ত করেছিল CISF। তবু খনির অন্ধকারে যে মৃত্যুর ব্যবসা চলছে, তাতে থামছে না কালোবাজার।

“জীবন সস্তা, কয়লা দামি”— শিল্পাঞ্চলের নির্মম বাস্তব

শিল্পাঞ্চলে ছোট শিল্প বন্ধ, কর্মসংস্থান নেই, বেকার যুবকদের একমাত্র ভরসা এই কালো কয়লার ব্যবসা। কিন্তু সেই কয়লাই এখন মৃত্যুর ফাঁদ। আজ সৌরভ, কাল অন্য কেউ— এই মৃত্যু যেন থামছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবিলম্বে এই অবৈধ খনির রমরমা বন্ধ না করলে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটবে। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি CISF ও কমিশনারেট পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখা উচিত বলে দাবি উঠেছে।

📢 শেষ কথা:

বরাবানির এই মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে—
কেন রক্ষকরা নীরব? কেন প্রশাসনের চোখের সামনে কয়লার কালোবাজার এমন নির্লজ্জভাবে চলতে পারে?
শিলপাঞ্চলের এই কালো অন্ধকারে আর কতজন প্রাণ হারাবে, সেই উত্তর এখনও অজানা।

ghanty

Leave a comment