মুর্শিদাবাদ | পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও বড় ধরণের টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদের ভরতপুর কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হুমায়ুন কবির ঘোষণা করেছেন যে তিনি আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগেই দল ছাড়ছেন। ১৫ আগস্টের পর তিনি নিজের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করবেন।
🔥 তৃণমূলের বিরুদ্ধে ফ্রন্ট, কিন্তু মমতা বা অভিষেকের প্রতি ক্ষোভ নয়
এক বেসরকারি বাংলা সংবাদ চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবির বলেন —
“আমাকে দলে কোনো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, অথচ যাঁরা জুনিয়র, তাঁদের প্রাধান্য পাচ্ছে।”
তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে তাঁর অসন্তোষ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি নয়, বরং মুর্শিদাবাদ জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে, যারা বহুবার মমতা বা অভিষেকের নির্দেশও মানছে না।
🧭 ৫০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা
নতুন দল মূলত মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর ও নদিয়া — এই চারটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলায় সক্রিয় থাকবে। কবির জানান —
“এই এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রকৃত কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে আমার দল।”
তিনি নিশ্চিতভাবে জানিয়েছেন, তাঁদের লক্ষ্য ৫০টি আসনে শক্তিশালী প্রার্থী দাঁড় করানো।
🔮 তৃণমূল আবার ক্ষমতায় ফিরবে, কিন্তু সংখ্যালঘু নেতারা অসন্তুষ্ট
হুমায়ুন কবিরের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস চতুর্থবারের মতো আবারও রাজ্যে সরকার গঠন করবে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই মুখ্যমন্ত্রী হবেন, তবে তৃণমূলের সংখ্যালঘু নেতাদের মধ্যে অসন্তোষের আগুন ধীরে ধীরে জ্বলতে শুরু করেছে।
তিনি দাবি করেন যে ভবিষ্যতে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী, কাসিম সিদ্দিকী এবং ফিরহাদ হাকিম এর মতো নেতারাও নিজস্ব রাজনৈতিক পথ বেছে নিতে পারেন।
💬 রাজনৈতিক বিশ্লেষণ:
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, হুমায়ুন কবিরের এই নতুন দল তৃণমূলের মুসলিম ভোট ব্যাংকে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। এতে করে কংগ্রেস ও ISF-এর উপরেও চাপ তৈরি হবে এবং পরোক্ষভাবে বিজেপিও উপকৃত হতে পারে।
📌 সম্ভাব্য প্রভাব:
- মুসলিম অঞ্চলে তৃণমূলের ভোট ক্ষয়
- কংগ্রেস ও আইএসএফের ভোট ভাগ হওয়ার আশঙ্কা
- বিজেপি লাভবান হতে পারে
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংগঠনে রদবদলের পথে হাঁটতে হতে পারে










