রানিগঞ্জ। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জনসংযোগে জোর দিলেন রানিগঞ্জের প্রখ্যাত চিকিৎসক ও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী ডা. বিজন মুখার্জি। তিনি রানিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত হরিশপুর গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা শোনেন।
হরিশপুর সেই গ্রাম, যেখানে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গ্রামবাসীরা সম্মিলিতভাবে ভোট বয়কট করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, গ্রামটি ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এবং একাধিকবার জমি ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কের পরিবেশে বসবাস করতে হচ্ছে।
পুনর্বাসনের দাবিতে ক্ষোভ
গ্রামবাসীদের বক্তব্য, পুনর্বাসনের দাবিতে তাঁরা বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনিক উদাসীনতার প্রতিবাদ হিসেবেই ২০২১ সালে তাঁরা ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন।
এই প্রেক্ষাপটে ডা. মুখার্জি গ্রামে বৈঠক করে বলেন, “ভোট বয়কট কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। গণতন্ত্রে নিজের দাবি তুলে ধরার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল ভোটদান।” তিনি আসন্ন নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য গ্রামবাসীদের আহ্বান জানান।
বিজেপি সরকার গড়লে পুনর্বাসনে অগ্রাধিকার
ডা. মুখার্জি জানান, বর্তমানে রাজ্যে বিজেপির প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই, তাই সরাসরি সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিনি আশ্বাস দেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে হরিশপুরের ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং মানুষের সমস্যাগুলি বাস্তব। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধানের পথ সুগম হতে পারে।
গ্রামবাসীদের ইতিবাচক সাড়া
বৈঠকে গ্রামবাসীরাও নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন এবং আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখান। তাঁদের দাবি, নিরাপদ বাসস্থান ও স্থায়ী পুনর্বাসনই এখন সবচেয়ে জরুরি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২১ সালের ভোট বয়কটের পর হরিশপুর আবারও নির্বাচনের আগে আলোচনায় উঠে এসেছে। এবার গ্রামবাসীরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন কি না, তা নিয়েই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
ডা. বিজন মুখার্জি শেষ পর্যন্ত আশ্বাস দেন, গ্রামবাসীদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে, যাতে তাঁরা ভয়মুক্ত পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারেন।











