মুজফফরপুর: গত ৩৫ বছর ধরে ভিসার ভিত্তিতে মুজফফরপুরে বসবাস করছেন পাকিস্তানি নারী ফারাহ জাহান। ভারত সরকারের সাম্প্রতিক নির্দেশে পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিল হওয়ার পর তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ফারাহর স্বামী ইউসুফ হানফি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—”ফারাহ ভারত ছাড়বে না। এখানেই ওর জীবন, এখানেই ওর পরিবার।”
সন্ত্রাসী হামলার পর কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সিদ্ধান্ত
জম্মু-কাশ্মীরের পাহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর ভারত সরকার পাকিস্তানী নাগরিকদের উপর চাপ বাড়িয়েছে। সমস্ত রকমের ভিসা বাতিল করে আগামী ২৭ এপ্রিলের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর জেরে বহু বছর ধরে ভারতে বসবাসরত পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মানুষদেরও বিপাকে পড়তে হয়েছে।
ফারাহর পরিবার: “এখানেই বেঁচে থাকার লড়াই”
১৯৯০ সালে মেহেদি হাসান চকের ইউসুফ হানফির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ফারাহ। তারপর থেকেই তিনি দীর্ঘমেয়াদী ভিসায় ভারতেই আছেন। মাঝে একাধিকবার ভিসা নবায়ন হয়নি, কিন্তু বর্তমানে তাঁর বৈধ পাকিস্তানি পাসপোর্ট রয়েছে, যা ২০৩০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর। তবে তাঁর ভিসার মেয়াদ ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৈধ। ইতিমধ্যেই ফারাহ ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, তবে তা এখনো মঞ্জুর হয়নি।
“ভারতই আমার দেশ”
ইউসুফ হানফির কথায়, “সরকারের সিদ্ধান্ত হয়তো স্বল্পমেয়াদী ভিসাধারীদের জন্য। যাঁরা অতিথি হয়ে এসেছেন, তাঁদের দেশ ছাড়তে হবে। কিন্তু ফারাহ এখানে নিজের সংসার গড়েছে। তাঁর সন্তানেরা সবাই ভারতীয়। এমন পরিস্থিতিতে ওর ভারত ছাড়ার প্রশ্নই ওঠে না।”
নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা
ফারাহর নাগরিকত্বের আবেদনের বিষয়ে এসএসপি অফিস থেকে ডিএম বরাবর রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। এখন কেবল চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।
ফারাহর মতোই ওয়াজিহার কাহিনি
মুজফফরপুরের কাজী মহম্মদপুর থানার মাড়িপুর এলাকায় বসবাসকারী ওয়াজিহা হায়াজের কাহিনিও প্রায় এক। ২০১২ সালে তিনি তানভীরের সঙ্গে বিবাহ করেন এবং দীর্ঘমেয়াদী ভিসায় ভারতে বসবাস করছেন। তাঁর ভিসার মেয়াদ চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত বৈধ। তিনিও জানিয়েছেন, “বিয়ে করার পর আমি ভারতেরই নাগরিক। এখন আমার তিনটি সন্তান রয়েছে, যারা সবাই ভারতীয়।”
মানবিক দৃষ্টিকোণ জরুরি
এই কঠোর নির্দেশের মাঝে প্রশ্ন উঠছে—যাঁরা দশকের পর দশক ধরে এখানে জীবন গড়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কি বিশেষ বিবেচনা করা উচিত নয়? মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করেই এইসব পরিবারগুলির প্রতি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, বলছে বিশিষ্ট মহল।










