পশ্চিম বর্ধমান:
মঙ্গলবার সকাল থেকেই পশ্চিম বর্ধমান জেলাজুড়ে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র হঠাৎ অভিযানে গোটা জেলা কার্যত থমথমে হয়ে উঠেছে। বুদবুদ থানার নবনিযুক্ত অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে সকাল থেকেই ইডি আধিকারিকরা টানা তল্লাশি চালাচ্ছেন।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, মনোরঞ্জন মণ্ডল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে থানার দায়িত্ব গ্রহণই করেননি। তার আগেই এই হাই-ভোল্টেজ ইডি অভিযান জেলাজুড়ে একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সকাল থেকেই ইডির একটি দল তাঁর বাড়িতে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ নথি, আর্থিক লেনদেন ও ব্যাংক সংক্রান্ত কাগজপত্র খতিয়ে দেখছে বলে সূত্রের খবর।
তল্লাশি চলাকালীন নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বাড়ির বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় সাধারণ মানুষের ভিড় জমতে দেখা গেছে, ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েক মাস আগে মনোরঞ্জন মণ্ডলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁকে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের স্পেশাল ব্রাঞ্চে নিযুক্ত করা হয়। সেখান থেকেই সম্প্রতি তাঁকে বুদবুদ থানার ওসি হিসেবে বদলি করা হয়। কিন্তু থানার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ইডির এই অভিযান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুধু একজন পুলিশ আধিকারিকের বাড়িতেই নয়, পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়লা ও বালু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও একযোগে ইডি অভিযান চলছে বলে জানা গেছে। একসঙ্গে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানোর ফলে গোটা জেলায় চাপা উত্তেজনা ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত ইডির পক্ষ থেকে এই অভিযানের কারণ বা তদন্তের পরিধি নিয়ে কোনও সরকারি বিবৃতি জারি করা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, কয়লা ও বালু সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়ম এবং অবৈধ লেনদেনের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
আপাতত ইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আগামী সময়ে এই তদন্ত থেকে আরও বড় তথ্য ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।











