কলকাতা:
বালু পাচার মামলায় বড়সড় অগ্রগতি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) শনিবার কলকাতার ব্যাঙ্কশাল ইডি বিশেষ আদালতে চার্জশিট জমা দিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, অরুণ সরাফ গ্রেপ্তারের মাত্র ৬০ দিনের মধ্যেই এই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় মোট ১৪টি সংস্থার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, গোটা বালু পাচার চক্রে প্রায় ১৪৫ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ বিভিন্ন উপায়ে একাধিক সংস্থার মাধ্যমে ঘোরানো হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম জিডি মাইনিং।
🏗️ জিডি মাইনিং কর্তা অরুণ সরাফের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
গত ৬ নভেম্বর ইডি গ্রেপ্তার করে জিডি মাইনিং-এর কর্তা অরুণ সরাফকে। তদন্তে উঠে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গ বালু (খনন, পরিবহণ, সংরক্ষণ ও বিক্রয়) সংক্রান্ত নিয়ম বা ডব্লিউবিএমডিটিসিএল-এর বিধিনিষেধ কার্যত উপেক্ষা করেই দীর্ঘদিন ধরে বালু খনন ও বিক্রি করা হচ্ছিল।
ইডির অভিযোগ, সরকারি কোষাগার থেকে অন্তত ৭৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও একাধিক অসঙ্গতির প্রমাণ মিলেছে।
তদন্তে জানা গেছে, ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে জিডি মাইনিং-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা জমা পড়ে, যার মধ্যে ১০৩ কোটি টাকা শুধুমাত্র বালু বিক্রি থেকেই আসে।
🚚 একই নম্বরে একাধিক ট্রাক, ভুয়ো নথিতে বালু পাচার
চার্জশিটে ইডি বালু পাচারের পদ্ধতিও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী বালু বহনকারী প্রতিটি ট্রাকের নির্দিষ্ট নম্বর প্লেট নথিভুক্ত থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, একই নম্বর প্লেট ব্যবহার করে একাধিক ট্রাক ও ডাম্পারে বালু পরিবহণ করা হচ্ছিল।
এছাড়াও, বালু বিক্রির ক্ষেত্রে ভুয়ো চালান ও ইনভয়েস ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকি বালু উত্তোলনের অনুমতিপত্রে থাকা কিউআর কোডও নকল ছিল বলে ইডির তদন্তে উঠে এসেছে।
🕵️ প্রশাসনের চোখে ধুলো?
ইডি জানিয়েছে, কাগজে-কলমে সবকিছু ঠিক থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসনের পক্ষে এই অনিয়ম ধরা কঠিন হয়ে পড়েছিল। অনুমতিপ্রাপ্ত একটি গাড়ির নম্বর দেখিয়ে, সেই নম্বর ব্যবহার করেই একাধিক গাড়িতে বালু পাচার করা হচ্ছিল। তদন্ত শেষে এই সমস্ত তথ্য চার্জশিটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।











