অন্ডাল | পশ্চিম বর্ধমান
পুনর্বাসনের দাবি তুলে ইসিএল কর্তৃপক্ষের ভাঙচুর অভিযানে বাধা দিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার ইসিএল-এর কাজোড়া এলাকার নবকাজোড়া নম্বর ৭ অঞ্চলে পুরনো ও পরিত্যক্ত কোম্পানি কোয়ার্টার ভাঙতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়ে ফিরে যেতে বাধ্য হল CISF নিরাপত্তা বাহিনী ও নবজম্বদ প্রকল্পের আধিকারিকরা।
ইসিএল সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পুরনো কোম্পানি কোয়ার্টার ও অব্যবহৃত বাড়ি ভাঙার উদ্দেশ্যেই অভিযান চালানো হচ্ছিল। তবে খবর পেয়ে স্থানীয় পুরুষ ও মহিলারা একজোট হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
নবজম্বদ প্রকল্পের ডেপুটি পার্সোনেল ম্যানেজার এইচ আর আশিস মোহানা জানান,
“আমাদের উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র পরিত্যক্ত কোম্পানি কোয়ার্টার ভাঙা। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলির প্রতিবাদের জেরে আমাদের অভিযান আপাতত বন্ধ রাখতে হয়েছে।”
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য,
“ইসিএল প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই আমরা এখানে বসবাস করছি। হঠাৎ করে যদি আমাদের উচ্ছেদ করা হয়, তাহলে আমরা যাব কোথায়? আগে পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা দিতে হবে।”
এই বিক্ষোভে সরাসরি নেতৃত্ব দেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সমবায় কর্মাধ্যক্ষ বিষ্ণুদেব নোনিয়া এবং কাজোড়া অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মলয় চক্রবর্তী। তাঁরা স্পষ্ট ভাষায় জানান,
“একজনকেও উচ্ছেদ করতে দেওয়া হবে না। যদি উচ্ছেদ করতেই হয়, তবে জামবাদ ওপেন কাস্ট প্রকল্পে যে পুনর্বাসন প্যাকেজ দেওয়া হয়েছিল, এখানেও ঠিক সেই রকম পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নবকাজোড়া এলাকায় বহু পরিবার কয়েক দশক ধরে বসবাস করছে। ফলে পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে এখনও চাপা উত্তেজনা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে প্রশাসন ও ইসিএল কর্তৃপক্ষ পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি।











