কলকাতা/নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ গহন পুনর্বিবেচনার সময় ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম সংযোজনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক তৎপরতা তীব্র হয়েছে। ভারত নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থান নিয়ে রাজ্য সরকারকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে—নির্দিষ্ট চারজন নির্বাচন আধিকারিকের বিরুদ্ধে ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এফআইআর দায়ের করতে হবে।
কমিশনের দাবি, তদন্ত চলাকালীন এমন কিছু প্রমাণ মিলেছে যা ভোটার তালিকায় অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। সেই ভিত্তিতেই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে মামলা
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজ্য সচিবালয়ে পাঠানো কমিশনের সাম্প্রতিক বার্তায় পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে—নামিত চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এফআইআর নথিভুক্ত করতে হবে। কমিশনের মতে, পূর্বে একাধিকবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।
আগেও জারি হয়েছিল নির্দেশ
গত বছরের আগস্ট মাসে নয়াদিল্লিতে কমিশনের সদর দপ্তর থেকে ওই আধিকারিকদের সাময়িক বরখাস্ত করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, ভোটার তালিকায় কারচুপি হয়েছে। সেই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতেই এবার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তি
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের নির্দেশের সমালোচনা করে জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার নিজেদের কর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা
নতুন ডেডলাইন ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তীব্র হয়েছে। বিরোধীরা একে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে শাসকদল প্রশাসনিক অধিকারের প্রশ্ন তুলছে।
এখন সবার নজর ১৭ ফেব্রুয়ারির দিকে—রাজ্য প্রশাসন কি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিশনের নির্দেশ পালন করবে, নাকি এই ইস্যু আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নেবে?
ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে কোনও আপস নয়—এই বার্তাই স্পষ্ট করে দিল নির্বাচন কমিশন।











