কলকাতা:
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়া চলাকালীন বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এসআইআর কাজে নিযুক্ত তিনজন আইএএস আধিকারিকের বদলি ও অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান নিয়ে কড়া আপত্তি জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ—বিনা পূর্বানুমতিতে জারি করা বদলির আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
জানা গেছে, গত বছর ২৭ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া ঘোষিত হয়। তার পর এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে একাধিক সরকারি কর্মী ও আধিকারিককে নিযুক্ত করা হয়। সেই প্রক্রিয়া চলাকালীন কয়েকজন আধিকারিককে বদলি ও অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
📌 মুখ্য সচিবকে কড়া চিঠি কমিশনের
এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,
👉 এসআইআর সংক্রান্ত কোনও আধিকারিককে বদলি করা বা অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
কমিশন রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আদেশ বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে।
👤 কোন কোন আধিকারিককে নিয়ে বিতর্ক?
যে তিনজন আইএএস আধিকারিককে ঘিরে এই বিতর্ক—
- অশ্বিনীকুমার যাদব: উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের পর্যবেক্ষক
- রণধীর কুমার: উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা উত্তরের পর্যবেক্ষক
- স্মিতা পান্ডে: পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূমের পর্যবেক্ষক
সম্প্রতি অশ্বিনীকুমার যাদব ও রণধীর কুমারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং স্মিতা পান্ডের বদলির নির্দেশ জারি করে রাজ্য সরকার। এই সিদ্ধান্তকেই নিয়মবিরুদ্ধ বলে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
⏰ বুধবারের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এসআইআর সংক্রান্ত কোনও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই কমিশনের অনুমতি নিতে হবে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে বুধবারের মধ্যে একটি রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে, যাতে জানাতে হবে কমিশনের নির্দেশ পালন করা হয়েছে কি না।
🗳️ মাঠে-ময়দানে চলছে এসআইআর কাজ
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা।
- বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) গ্রাম ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
- এনিউমারেশন ফর্ম বিতরণ ও জমা নেওয়ার কাজ চলছে।
- ভিনরাজ্যে কর্মরত ভোটারদের জন্য অনলাইন ফর্ম পূরণের সুবিধা চালু করা হয়েছে।
এই প্রক্রিয়া শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের আরও ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একসঙ্গে চলছে।
🔍 রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব বাড়ছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের মুখে এসআইআর-এর মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক বদলি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের এই কড়া অবস্থান স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে—ভোটার তালিকার নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না। আগামী দিনে এই বিষয়টি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।











