দুর্গাপুর: এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই একের পর এক অভিযোগে নিন্দিত হচ্ছিলেন বহু বিএলও। বাড়িতে গিয়ে ফর্ম না দেওয়া, আবার মন্দিরে বা পাড়ার ক্লাবে বসে ফর্ম পূরণের নামে নানা অনিয়ম—সব মিলিয়ে ক্ষোভ বাড়ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে। অভিযোগের পাহাড়ে বিরক্ত প্রশাসন এবার কঠোর পদক্ষেপ নিল। অনলাইন ফর্ম ফিল-আপকে বাধ্যতামূলক ও সহজ করতে এবার রাস্তায় নেমেই উদাহরণ তৈরি করলেন দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস।
প্রেস ক্লাবে টেবিল পেতে ফর্ম পূরণ শিক্ষা—চমকে দুর্গাপুরবাসী
মঙ্গলবার দুপুর ঠিক ১২টা। দুর্গাপুর প্রেস ক্লাবে প্রত্যাশিত কোনও সাংবাদিক সম্মেলন নয়—বরং দেখা গেল একেবারে অন্য দৃশ্য।
টেবিল পেতে বসে আছেন মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস নিজেই!
চারদিকে চমকে ওঠা সাধারণ মানুষ। মুহূর্তেই ভিড় জমে গেল।
তারপর শুরু হল “ফর্ম পূরণের ক্লাস”—যেন প্রশাসন নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এক বন্ধুর মতো অনলাইন ফর্ম কীভাবে পূরণ করতে হয় তা ধাপে ধাপে বুঝিয়ে দিলেন তিনি।
সুবিধাই সুবিধা—MRO-এর ভাষায় অনলাইন ফর্মের ৫ দফা লাভ
মহকুমা শাসক জানালেন—
✔ ভুল করার সম্ভাবনা কম
✔ নথি লাগে কম
✔ লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা নেই
✔ দেশের যেকোনো প্রান্তে বসে করা যাবে
✔ পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দ্রুত
এক কথায়, অনলাইন ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করতেই তাঁর এই অভিনব উদ্যোগ।
চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, গৃহবধূ—সবাই বসলেন এক টেবিলে
এদিন প্রেস ক্লাবে অদ্ভুত এক দৃশ্য চোখে পড়ে।
একদিকে চিকিৎসক, অন্যদিকে ব্যবসায়ী, আবার পাশে সাধারণ গৃহবধূ—সকলেই বসে ফর্ম পূরণ করছেন মহকুমা শাসকের নির্দেশে।
যেন দুর্গাপুরে তৈরি হল ডিজিটাল গণতন্ত্রের এক নতুন ছবি।
বিএলওদের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি
সূত্রের খবর, যেসব এলাকায় ফর্ম দিতে গিয়ে বারবার অভিযোগ উঠেছিল, সেখানে নজরদারি আরও বাড়াচ্ছে প্রশাসন। অনিয়ম প্রমাণ হলে শুরু হবে কড়া ব্যবস্থা। পাশাপাশি মানুষের হাতে ডিজিটাল ক্ষমতা তুলে দিতেই এদিনের অভিনব পদক্ষেপ।
দুর্গাপুরবাসীর কথায়—
“এমন প্রশাসক আগে দেখিনি! যিনি নিজে রাস্তায় নেমে মানুষকে শেখাচ্ছেন।”
দুর্গাপুরের এই ছবি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।











