দুর্গাপুর:
টানা বর্ষণে দুর্গাপুর পুরনিগমের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুকান্তপল্লি খালপাড় এলাকার রাস্তা ধসে পড়েছে, এবং সেই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন জীবন বাজি রেখে যাতায়াত করছেন প্রায় ১২০টি পরিবার।
ছাত্রছাত্রী থেকে বাইক আরোহী, প্রবীণ থেকে অসুস্থ মানুষ—সবারই জন্য এই রাস্তাটি এখন মৃত্যুর ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে, ছোট-বড় চোট পেয়ে চলেছেন বহু মানুষ।
🧒🏼 রোগী হলে কাঁধে করে রাস্তায়, তারপর অ্যাম্বুল্যান্সে!
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কেউ অসুস্থ হলে প্রথমে কাঁধে করে তাঁকে নিয়ে আসতে হয় এই ধসে যাওয়া রাস্তা পেরিয়ে, তারপর মূল রাস্তায় গিয়ে পাওয়া যায় অ্যাম্বুল্যান্স। অনেকসময় ততক্ষণে দেরি হয়ে যায় চিকিৎসা শুরু করতে।
এক অভিভাবক মধুমিতা সেন বলেন,
“আমার ছোট ছেলে প্রতিদিন এই ভাঙা রাস্তা দিয়ে স্কুলে যায়। প্রতিবার মনে হয় ও ফিরে আসবে তো ঠিকঠাক?”
🏛️ পুরনিগম ঘুমিয়ে? ক্ষুব্ধ বিজেপি
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রায় দুই মাস আগে দুর্গাপুর পুরনিগমের একটি প্রতিনিধি দল এলাকা পরিদর্শন করেছিল, কিন্তু আজও কোনো মেরামতির কাজ শুরু হয়নি।
এই অবস্থায় প্রাক্তন কাউন্সিলর ও বিজেপি নেতা চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া ভাষায় পুরনিগমকে আক্রমণ করেছেন।
তিনি বলেন—
“মানুষ রোজ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। পুরনিগমের শুধু প্রতিশ্রুতি, কাজ নেই!”
💬 প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এই প্রসঙ্গে দুর্গাপুর পুরনিগমের প্রশাসনিক বোর্ডের সদস্য ধর্মেন্দ্র যাদব আশ্বাস দিয়েছেন যে,
“খুব শীঘ্রই রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু হবে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।”
⚠️ উপসংহার: কবে ফিরবে নিরাপদ রাস্তা?
দুর্গাপুরের এই সংকট শুধু একটি রাস্তা ধসের ঘটনা নয়, এটি শহর পরিচালনার গাফিলতির প্রতিচ্ছবি। এখন প্রশ্ন, বাসিন্দাদের কতটা ভোগান্তির পর জাগবে প্রশাসন?
এই রাস্তাটি না মেরামত হলে যে কোনো দিন ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা—এবং তখন “বলা হয়নি” বলার সুযোগ থাকবে না।










