স্কুলছুট রুখতে দুর্গাপুরে ‘দুয়ারে স্কুল’, বাড়ি বাড়ি পৌঁছল শিক্ষার আলো

single balaji

দুর্গাপুর:
স্কুলছুটের হার কমানো এবং পড়ুয়াদের আবার শিক্ষার মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে এক ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিল দুর্গাপুরের সরকারি নেপালি পাড়া হিন্দি উচ্চ বিদ্যালয়। রবিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে ‘দুয়ারে স্কুল’ কর্মসূচি, যার মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের চার দেওয়াল ভেঙে শিক্ষা পৌঁছে গেল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়।

দুর্গাপুর পুরনিগমের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ারিয়া এলাকায় এই কর্মসূচিকে ঘিরে দেখা যায় এক অন্য ছবি। শুধু শিক্ষক-শিক্ষিকারা নন, তাঁদের সঙ্গে শামিল হন শত শত ছাত্রছাত্রীও। বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে পড়াশোনার গুরুত্ব, সরকারি বিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা এবং সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

সরকারি স্কুলের সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরা হয়

‘দুয়ারে স্কুল’ কর্মসূচির আওতায় অভিভাবকদের বিস্তারিতভাবে জানানো হয় সরকারি বিদ্যালয়ে পড়লে কী কী সুবিধা পাওয়া যায়।
সবুজ সাথী প্রকল্পে সাইকেল, কন্যাশ্রী ও রূপশ্রী প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা, মিড-ডে মিল প্রকল্পে বিনামূল্যে বই ও পোশাক—সহ একাধিক সরকারি সুযোগ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। এর মাধ্যমে সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অভিভাবকদের উৎসাহিত করা হয়।

পুলিশের উপস্থিতিতে বাড়ল আস্থা

এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ড. কালিমুল হক, সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা। পাশাপাশি পুলিশের আধিকারিকদের উপস্থিতিও নজর কেড়েছে। তাঁদের উপস্থিতিতে কর্মসূচির গুরুত্ব আরও বেড়েছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে বিশ্বাস ও ভরসা আরও মজবুত হয়েছে।

“ভুল ধারণা ভাঙতেই দুয়ারে স্কুল” — প্রধান শিক্ষক

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ড. কালিমুল হক বলেন,
“অর্থনৈতিক সংকট, সচেতনতার অভাব বা ভুল ধারণার কারণে অনেক পড়ুয়া মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। সেই সমস্যার সমাধান করতেই আমাদের ‘দুয়ারে স্কুল’। পড়ুয়াদের রেললাইন পার হওয়ার ঝুঁকি, সিগন্যাল ছাড়া জাতীয় সড়ক পারাপারের বিপদ সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্কুলের বাইরে কোনও ভুল কাজে জড়াতে নিষেধ করা হয়েছে। ছাত্রদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং অভিভাবকদের মনোবল দৃঢ় করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

অভিভাবকদের স্বস্তি

স্থানীয় অভিভাবক দিনেশ যাদব বলেন,
“আমাদের এলাকায় বেশিরভাগ মানুষই দিনমজুর। স্কুলে গিয়ে সমস্যা জানানো সব সময় সম্ভব হয় না। এই দুয়ারে স্কুলের মাধ্যমে আমরা আমাদের সমস্যার কথা বলতে পেরেছি। বাস চলাচলের সমস্যা সহ বিভিন্ন সুবিধা সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। দ্রুত সমাধানের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই উদ্যোগ আমাদের খুব উপকারে এসেছে।”

শিক্ষা হোক জনআন্দোলন

এই ‘দুয়ারে স্কুল’ কর্মসূচি শুধু একটি শিক্ষা উদ্যোগ নয়, বরং স্কুলছুট রুখে শিক্ষা ব্যবস্থাকে জনআন্দোলনে রূপ দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। নিয়মিতভাবে এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে স্কুলছুটের সমস্যা অনেকটাই কমবে বলেই আশাবাদী সকলে।

ghanty

Leave a comment