কলকাতা: চিকিৎসা জগতের এক স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল। দেশের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত ডা. মণি ছেত্রী ১০৬ বছর বয়সে কলকাতার নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। রবিবার গভীর রাতে তাঁর প্রয়াণে চিকিৎসা মহল ও অসংখ্য অনুগামীর মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
💔 চিকিৎসা জগতের স্তম্ভের বিদায়
ডা. মণি ছেত্রী-কে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবার এক অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে গণ্য করা হতো।
👉 তিনি শুধু একজন দক্ষ চিকিৎসকই নন, বরং তাঁর অবদান চিকিৎসা জগতকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
সহকর্মী ও রোগীদের কাছে তিনি ছিলেন মানবিকতা ও নিষ্ঠার প্রতীক।
🏥 ১০৪ বছর বয়স পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ডা. মণি ছেত্রী প্রায় ১০৪ বছর বয়স পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে রোগী দেখেছেন।
👉 প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বাড়িতে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পান তিনি।
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হলেও, গত কয়েক দিনে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং অবশেষে তিনি প্রয়াত হন।
📚 দার্জিলিং থেকে বিশ্বজোড়া যাত্রা
১৯২০ সালের ২৩ মে দার্জিলিংয়ে জন্মগ্রহণ করেন ডা. মণি ছেত্রী।
👉 ১৯৪৪ সালে তিনি এমবিবিএস সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
ভারতে ফিরে তিনি হৃদরোগ চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন এবং কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য পরিষেবার ডিরেক্টর পদেও তিনি কর্মরত ছিলেন।
🏅 পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত
চিকিৎসা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৭৪ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে।
👉 এই সম্মান তাঁর দীর্ঘদিনের নিরলস সেবার স্বীকৃতি বহন করে।
🧠 শেষ জীবনেও প্রেরণা
১৯৮২ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরও তিনি বহু বছর চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে গেছেন।
👉 জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হন, ফলে তাঁর কার্যকলাপ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়ে।
তবুও, জুনিয়র চিকিৎসকরা তাঁর অভিজ্ঞতা ও পরামর্শের জন্য নিয়মিত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
🌹 চিরস্মরণীয় এক কিংবদন্তি
ডা. মণি ছেত্রী-র প্রয়াণ শুধু একজন চিকিৎসকের মৃত্যু নয়, বরং এক অনন্য যুগের অবসান।
তাঁর কর্ম, নিষ্ঠা এবং মানবিকতা আগামী প্রজন্মের চিকিৎসকদের পথ দেখাবে—এই বিশ্বাসেই তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছে গোটা দেশ।















