কেরল বিধানসভা নির্বাচনের মুখে কংগ্রেসের অন্দরমহলে নতুন করে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। দলের প্রবীণ নেতা ও সাংসদ শশী থারুর এবং কংগ্রেস নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে বলে জোর জল্পনা চলছে। দিল্লিতে দলীয় হাইকম্যান্ড ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শশী থারুরের অনুপস্থিতি এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
দলীয় সূত্রের খবর, কেরল নির্বাচনের কৌশল নির্ধারণে দিল্লিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হলেও সেখানে উপস্থিত থাকছেন না শশী থারুর। বলা হচ্ছে, তিনি রাজ্য এবং জাতীয় স্তরের কংগ্রেস নেতৃত্বের উপর অসন্তুষ্ট।
🪑 কোচির সভা থেকেই শুরু অস্বস্তি
কংগ্রেস সূত্র অনুযায়ী, ১৯ জানুয়ারি কোচিতে অনুষ্ঠিত কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সভায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা থেকেই শশী থারুরের অসন্তোষের সূত্রপাত। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। থারুরের ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছেন রাহুল গান্ধী—এমনটাই দাবি ঘনিষ্ঠ মহলের।
থারুরের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, সেদিন মঞ্চে তাঁর জন্য নির্ধারিত আসন নিয়েই তিনি সবচেয়ে বেশি বিরক্ত হন। অভিযোগ, দলের দীর্ঘদিনের প্রথা উপেক্ষা করে মঞ্চে নেতাদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও শশী থারুরকে মঞ্চের একেবারে পিছনের দিকে বসতে বলা হয়।
🎤 বক্তৃতা নিয়েও বাড়ে ক্ষোভ
সূত্রের দাবি, সভার আগেই অন্যান্য নেতাদের জানানো হয়েছিল যে রাহুল গান্ধীই মূল এবং দীর্ঘ বক্তৃতা দেবেন, আর বাকিদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখতে হবে। দলীয় নির্দেশ মেনে শশী থারুরও একটি ছোট বক্তৃতা প্রস্তুত করে নিয়ে গিয়েছিলেন।
কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের পর একাধিক নেতা দীর্ঘ ভাষণ দেন। এতে থারুর আরও অসন্তুষ্ট হন। পাশাপাশি, রাহুল গান্ধী তাঁর বক্তৃতায় বহু নেতার নাম উল্লেখ করলেও শশী থারুরের নাম একবারও উল্লেখ করেননি—যা তাঁর ক্ষোভের আরেকটি বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
🗳️ কেরলে কংগ্রেসের জন্য অশনিসংকেত?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেরলে শশী থারুর কংগ্রেসের অন্যতম গ্রহণযোগ্য ও পরিচিত মুখ। নির্বাচনের আগে তাঁর সঙ্গে দলের এই দূরত্ব কংগ্রেসের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সময় থাকতে পরিস্থিতি সামাল না দিলে, এর প্রভাব ভোটের অঙ্কে পড়তে পারে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।











