ভারতীয় সেনাবাহিনীর গর্ব, কর্নেল সোফিয়া কুরেশি আবারও ইতিহাস গড়লেন। সম্প্রতি পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার জবাবে ভারতীয় বাহিনী পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর সংবাদ সম্মেলনে যিনি জাতিকে তথ্য দিলেন, সেই সেনানায়িকা শুধু একটি মুখ নন — তিনি এক সাহস, নেতৃত্ব এবং নিঃস্বার্থ দেশের প্রতি ভালবাসার প্রতীক।
🎖️ কর্নেল কুরেশি কে?
১৯৭৪ সালে গুজরাটের বরোদায় এক সামরিক পরিবারে জন্ম। তাঁর ঠাকুরদা ছিলেন সেনাবাহিনীতে ধর্মীয় গুরু। ১৯৯৭ সালে মানোন্মানিয়াম সুন্দরনার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিস্ট্রিতে মাস্টার্স করার পর ১৯৯৯ সালে ‘সিগন্যাল কর্পস’-এ যোগ দেন।
তিনি ২০১৬ সালে ইতিহাস তৈরি করেন, যখন ‘আসিয়ান প্লাস ফোর্স ১৮’ নামে বহুজাতিক সেনা মহড়ায় তিনি ছিলেন একমাত্র মহিলা কমান্ডার, ভারতের হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
🔥 অপারেশন সিঁদুর: কিভাবে চালানো হয় হামলা?
বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রীর প্রাথমিক বিবৃতির পর কর্নেল কুরেশি এবং উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং জানিয়েছেন, ১ মে রাত ১.০৫ থেকে ১.৩০-র মধ্যে অপারেশন চালানো হয়। ৯টি সন্ত্রাসী ঘাঁটিকে নিশানা করা হয় পাকিস্তান ও পিওকে-তে।
তিনি বলেন, “বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই ক্যাম্পগুলিকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। তারা সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে যুক্ত ছিল।”
🌍 আন্তর্জাতিক শান্তি মিশনে নেতৃত্ব
২০০৬ থেকে ছয় বছরের জন্য কঙ্গোতে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। “সংঘাতের মাঝেও শান্তি ফিরিয়ে আনা জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন,” – বলেছেন কল কুরেশি।
⛑️ বন্যা ত্রাণেও অগ্রণী ভূমিকা
উত্তর-পূর্ব ভারতে বন্যা ত্রাণ চলাকালীন সংকটকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার জন্য সেনাবাহিনীর ‘সিগন্যাল অফিসার ইন চিফ’ থেকে বিশেষ কমেন্ডেশন পান।
🛡️ অপারেশন পরাক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
২০০১ সালে সংসদ হামলার পরে পাঞ্জাব সীমান্তে অপারেশন পরাক্রম চলাকালীন তাঁর নেতৃত্ব এবং দক্ষতার জন্য জিওসি ইন চিফ-এর কাছ থেকে কমেন্ডেশন কার্ড পান।
👩👩👧👦 পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবন
তিনি মেকানাইজড ইনফ্যান্ট্রি বিভাগের একজন অফিসার এবং তাঁর স্বামীও একই শাখায় কর্মরত। এই সামরিক দম্পতির জীবনে দেশসেবা একমাত্র অগ্রাধিকার।













