সূর্য উপাসনার মহাপর্ব চৈতি ছঠ সামনে, ঘাট সাজাতে শুরু জোর প্রস্তুতি

single balaji

আসানসোল: গভীর আস্থা ও ভক্তির মহাপর্ব চৈতি ছঠ পূজাকে ঘিরে আসানসোল অঞ্চলে শুরু হয়ে গেল প্রস্তুতি। সোমবার কালা প্রভু ছঠ ঘাটে ভূমিপুজোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বছরের আয়োজনের সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার সমাজসেবী ও বিজেপি নেতা কৃষ্ণ প্রসাদ সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভক্তরা সূর্যদেব ও ছঠি মাইয়ার কাছে এলাকার শান্তি, সুখ-সমৃদ্ধি এবং সকলের মঙ্গল কামনা করেন। ভূমিপুজোর মধ্য দিয়েই ছঠ ঘাটের প্রস্তুতির কাজ শুরু হওয়ায় এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।

৪৯তম বর্ষে চৈতি ছঠ উদযাপন

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষ্ণ প্রসাদ জানান, লি ক্লাবের উদ্যোগে এ বছর চৈতি ছঠ পূজার ৪৯তম বর্ষ পালিত হতে চলেছে। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে এই পূজা এলাকার মানুষের বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে রয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পূজার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি ছঠ ঘাটকে আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়ে তোলা হবে, যাতে ভক্তরা সুন্দর পরিবেশে পূজা করতে পারেন।

ব্রতীদের সুবিধার জন্য বিশেষ উদ্যোগ

কৃষ্ণ প্রসাদ জানান, ছঠ ব্রত পালনকারী মহিলাদের ও অন্যান্য ভক্তদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে পূজার প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থাও করা হবে। এতে ব্রতীরা নির্বিঘ্নে পূজা সম্পন্ন করতে পারবেন।

এছাড়াও ঘাটে পর্যাপ্ত আলো, নিরাপত্তা, পানীয় জল এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থাও করা হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

৩৬ ঘণ্টার কঠোর নির্জলা ব্রত

চৈতি ছঠ পূজা মূলত সূর্য উপাসনার এক গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এই সময়ে ব্রতী নারী ও পুরুষরা ৩৬ ঘণ্টার কঠোর নির্জলা উপবাস পালন করে সূর্যদেব এবং ছঠি মাইয়ার আরাধনা করেন।

এই পূজার মাধ্যমে তারা পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য এবং মঙ্গল কামনা করেন। বিশেষ করে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের সময় নদী বা জলাশয়ের ধারে দাঁড়িয়ে সূর্যদেবকে অর্ঘ্য প্রদান করা এই উৎসবের প্রধান অংশ।

ঘাট পরিষ্কার ও সাজসজ্জার কাজ শুরু

ভূমিপুজোর পর থেকেই কলা প্রভু ছঠ ঘাটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সাজসজ্জা এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজ দ্রুত শুরু করা হয়েছে। আয়োজকদের লক্ষ্য, আগামী দিনগুলিতে যেন ভক্তদের কোনও অসুবিধা না হয় এবং উৎসবটি আনন্দ ও ভক্তির আবহে সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, চৈতি ছঠ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি সামাজিক ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতারও এক অনন্য উদাহরণ, যেখানে এলাকার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ মিলিতভাবে এই আয়োজনকে সফল করে তোলেন।

ghanty

Leave a comment