কলকাতা:
আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের ভোটকেন্দ্রগুলিতে পরিকাঠামোগত ঘাটতি নিয়ে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাই কোর্ট। ভোটকেন্দ্রগুলিতে থাকা মৌলিক সুবিধা সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে আদালত।
এই নির্দেশ দেওয়া হয় বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমিক ভট্টাচার্য দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিকালে। মামলাটির শুনানি চলছে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেন-এর ডিভিশন বেঞ্চে।
⚖️ নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য না শুনে নির্দেশ নয়
ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য শোনা ছাড়া এই বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণেই কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেয় এবং জানায়—ভোটকেন্দ্রগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে এখন পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আদালত জানিয়েছে, রিপোর্ট জমা পড়ার এক সপ্তাহ পর এই মামলার পুনরায় শুনানি হবে।
🚰 পানীয় জল, বিদ্যুৎ, শৌচালয়ের অভাব
জনস্বার্থ মামলায় শমিক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন, রাজ্যের বহু ভোটকেন্দ্রে এখনও ন্যূনতম পরিকাঠামো পর্যন্ত নেই। একাধিক জায়গায়
- পানীয় জলের ব্যবস্থা অনুপস্থিত,
- বিদ্যুৎ পরিষেবা অপ্রতুল,
- শৌচালয় নেই বা ব্যবহার অযোগ্য।
এর ফলে ভোট দিতে এসে সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি মহিলা, প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
🏗️ ৪০ শতাংশ কাজ করেই পিছিয়ে গেল সংস্থা?
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন ভোটকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সংস্থা ম্যাকিন্টশ বার্ন লিমিটেড-কে দিয়েছিল। অভিযোগ, কিছু কাজ সম্পন্ন করার পর সংস্থাটি কার্যত কাজ বন্ধ করে দেয়।
শমিক ভট্টাচার্যের দাবি, সংশ্লিষ্ট সংস্থা মাত্র প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে, অথচ বাকি কাজ আজও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। এর ফলে নির্বাচন পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
🗳️ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব স্মরণ করাল আদালত
কলকাতা হাই কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রগুলির মৌলিক পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা ও তা উন্নত করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। প্রয়োজনে কমিশন এই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, হাই কোর্টের এই কঠোর অবস্থান নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে গতি আনবে এবং ভোটারদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভোটদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।











