আসানসোল :
আসানসোলের শিল্পাঞ্চল বর্ণপুরে একদিকে যখন শতাব্দী প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গৌরবময় ইতিহাস উদযাপন করা হলো, ঠিক তখনই অন্যদিকে উঠে এল ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ। বার্ণপুর বয়েজ হাই স্কুল (স্থাপিত ১৯২৫) ও বার্ণপুর গার্লস হাই স্কুল-এর শতবর্ষ উদযাপনের মধ্যেই শুরু হলো জোরালো ‘স্কুল বাঁচাও’ আন্দোলন।
🎂 কেক কাটার সঙ্গে স্মৃতিচারণ, শতবর্ষের গর্ব
শুক্রবার স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত শতবর্ষ উৎসবে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের মিলনমেলা বসে যায়। কেক কেটে উদযাপন করা হয় শত বছরের শিক্ষাযাত্রা। পুরনো দিনের স্মৃতি রোমন্থনের সঙ্গে উঠে আসে স্কুলজীবনের নানা গল্প।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ছাত্র ও জনপ্রতিনিধি অশোক রুদ্র-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। বক্তারা বলেন, এই স্কুলগুলি শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বর্ণপুরের সামাজিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
✊ নেতাজির জন্মদিনে প্রতীকী প্রতিবাদ
শতবর্ষ উদযাপনের পাশাপাশি ২৩ জানুয়ারি, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
‘বর্ণপুর বয়েজ ও গার্লস হাই স্কুল বাঁচাও মঞ্চ’-এর সঙ্গে যুক্ত প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা ভারতী ভবনের কাছে অবস্থিত নেতাজির মূর্তির সামনে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান।
এই সময় ইস্কো (ISCO) ম্যানেজমেন্ট-এর কর্মকর্তারা নেতাজির মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাতে এলে, প্রাক্তনীরা তাঁদের গোলাপ ফুল দিয়ে একটি আবেদনপত্র তুলে দেন। আবেদনে স্পষ্টভাবে দাবি জানানো হয়—
- স্কুল বন্ধ করা যাবে না
- কোনওভাবেই বেসরকারিকরণ করা চলবে না
- ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে হবে
📚 দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ
প্রাক্তন ছাত্রদের বক্তব্য, এই দুই স্কুলে আজও বিপুল সংখ্যক দরিদ্র ও শ্রমজীবী পরিবারের পড়ুয়া পড়াশোনা করে। স্কুল বন্ধ বা বেসরকারিকরণ হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই ছাত্রছাত্রীরাই।
তাঁদের দাবি, শিক্ষা কোনও লাভের পণ্য নয়—এটি সামাজিক দায়িত্ব। শতবর্ষ পেরোনো এই স্কুলগুলিকে বাঁচাতে প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে।
🔍 বর্ণপুরে শিক্ষা বনাম বেসরকারিকরণ বিতর্ক তুঙ্গে
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্ণপুর জুড়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—
শিল্পাঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়িত্ব কি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে?
প্রাক্তনীদের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছে।











