আসানসোল, বার্নপুর: বুধবার সকালে বার্নপুরে দামোদর নদীর উপর নির্মিত পাবলিক হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং (PHE) বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন ব্রিজ হঠাৎ ভেঙে পড়ে। ব্রিজের সঙ্গে ভারী জল সরবরাহ পাইপলাইনও নদীতে পড়ে যায়। এতে আসানসোল ও বর্নপুর সহ আশেপাশের এলাকায় জলের সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে যেখানে ব্রিজটি ছিল সেই এলাকায় অবৈধভাবে বালি তোলা চলছিল জোরকদমে। বারংবার প্রশাসনকে অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। নদীর পাড়ের মাটি ক্ষয়ে গিয়ে ব্রিজের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে — এবং অবশেষে এই বিপর্যয় ঘটে।
🔍 তদন্তে গাফিলতি?
এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্রিজ ধসের নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে এলাকার মানুষ সরাসরি দায় চাপাচ্ছেন অবৈধ বালি খননের উপর। স্থানীয় বাসিন্দা রামজিত সিং বলেন, “রাত-দিন বালি তোলা চলত এখানে। অনেকবার বলেছি, কিন্তু কানে দেয়নি কেউ। আজ তার ফল ভোগ করছে গোটা এলাকা।”
🚰 জল সংকটে ভোগান্তি, পিএইচই বিভাগের হুড়োহুড়ি
পাইপলাইন ভেঙে পড়ায় বার্নপুর ও সংলগ্ন এলাকায় পানীয় জলের যোগান বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। পিএইচই বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করছেন। সূত্র মারফত জানা গেছে, আপৎকালীন বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে যাতে দ্রুত জলের সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা যায়।
🧱 অব্যবস্থার অভিযোগে প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নের মুখে
জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সংগঠনগুলি প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, “যদি সময়মতো অবৈধ বালি তোলা বন্ধ করা হতো, তাহলে এই ঘটনা ঘটত না। প্রশাসনের নিরবতা মানে তো অজান্তে মদত দেওয়া!”
🌊 আগেও ঘটেছে এমন দুর্ঘটনা
দামোদর নদীতে অবৈধ বালি খননের কারণে অতীতেও বহুবার নদীতীর ভেঙে পড়া, জমি ধসে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৯ সালে অনুরূপভাবে একটি কাঁচা সেতু নদীতে ভেঙে পড়েছিল, তবুও নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় ফের একবার নদীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গেল।
📣 এখন দেখার, আদৌ তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হয় কিনা — নাকি ফের মুখ বুজে থাকবে প্রশাসন।










