হরগোবিন্দ-চন্দনের হত্যাকাণ্ডে রণাঙ্গনে রাজনীতি, পাল্টা তোপ তৃণমূলের

single balaji

আসানসোল/মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হিংসা ও প্রবীণ মূর্তিকার হরগোবিন্দ দাস (৭৪) ও তার পুত্র চন্দন দাস (৪০)-এর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বুধবার সারা রাজ্যজুড়ে আন্দোলনে নামে বিজেপি। এই ঘটনার জেরে রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পল-এর নেতৃত্বে বর্ণপুরের ত্রিবেণী মোড়ে পথ অবরোধ করে বিজেপি কর্মীরা পালন করেন ‘হিন্দু শহিদ দিবস‘। সড়কের উপর গড়ে তোলা হয় শহিদ বেদি, যেখানে নিহত বাবা-ছেলের ছবি রাখা হয়। অগ্নিমিত্রা বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

🔥 অগ্নিমিত্রা পলের বিস্ফোরক মন্তব্য:

তিনি বলেন,

“এই হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত নিন্দনীয় ও পূর্বপরিকল্পিত। এক বিশেষ সম্প্রদায়ের দুষ্কৃতীরা হরগোবিন্দ ও চন্দনকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, লুট করেছে বহু সনাতনী হিন্দুর ঘরবাড়ি। অথচ পুলিশ নির্বিকার দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোষণের রাজনীতি এর জন্য দায়ী।”

তিনি আরও দাবি করেন, হাইকোর্টের হস্তক্ষেপেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

“যতদিন না বাংলায় বিজেপির সরকার হয়, ততদিন হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়,” — বলেন তিনি।

🕯️ আধঘণ্টার অবরোধ, থমথমে পরিবেশ:

এই প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে চলে, যার জেরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং এলাকায় টহল বাড়ানো হয়।

🌀 তৃণমূলের পাল্টা তোপ:

বিজেপির প্রতিবাদের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তিনি বলেন,

“কে দাঙ্গা ঘটায় আর কে ধর্মের রাজনীতি করে তা বাংলার মানুষ ভালো করেই জানে। বিজেপি চক্রান্ত করে রাজ্যে অশান্তি ছড়াতে চাইছে।”

তার দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়ে দিয়েছেন—

“মুর্শিদাবাদের ঘটনা সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক। কিছু বিশেষ শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।”

🔎 ভাস্কর হরগোবিন্দের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন:

স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন—

“যেখানে একজন প্রবীণ মূর্তিকারকও নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা?”

ঘটনার পর থেকেই বিজেপি বিষয়টিকে বৃহত্তর হিন্দু নিরাপত্তা ইস্যুতে রূপান্তর করতে চাইছে, যা আগামী নির্বাচনের জন্য এক বড় হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

ghanty

Leave a comment